বিপিজিএমইএতে প্রশাসক বসানোর দাবি, মেয়াদ বাড়ানোয় ক্ষোভ

বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগের দাবি তুলেছেন সংগঠনটির সাধারণ সদস্যরা। একই সঙ্গে তারা বর্তমান নির্বাচনী তফসিল বাতিল করে নতুন করে ফের তফসিল ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
সাধারণ সদস্যদের অভিযোগ, ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান নেতৃত্ব তাদের ইচ্ছেমতো ‘যেনতেনভাবে’ নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করছেন, যাতে বর্তমান সভাপতি শামীম আহমেদ ও তর অনুসারীরা পুনরায় ক্ষমতায় আসীন থাকতে পারেন।
এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ সদস্যদের পক্ষে বিপিজিএমইএ সদস্য ও ইমপ্রুভ এক্সেসরিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম জহির ফারুক সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। চিঠিতে আগামী ৭ মে ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল স্থগিত করে প্রশাসক নিয়োগ এবং নতুন তফসিল ঘোষণার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেওয়া ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০০৪ সালের পর থেকে সংগঠনটিতে কোনো প্রকৃত নির্বাচন হয়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, বিগত বছরগুলোতে নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম), বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) কিংবা বোর্ড সভাও যথাযথভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে সংগঠনটির কার্যক্রমে দীর্ঘ সময় ধরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অনুপস্থিত। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, এসব অনিয়মে মদদ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট সংগঠনের সাবেক সভাপতি মো. জসীম উদ্দিন।
বিজ্ঞাপন
সংগঠনটির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ক্রয় কমিটি ছাড়াই জমি কেনা, বোর্ড অনুমোদন ছাড়াই ব্যাংক ও লিজিং প্রতিষ্ঠানে অর্থ বিনিয়োগ এবং পরবর্তীতে সেই অর্থের হদিস না পাওয়ার মতো গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। সদস্যদের দাবি, এসব সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, বিপিজিএমইএ-র গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সদস্য হওয়ার জন্য শিল্প-কারখানার মালিক হওয়া বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তবে অনেক অযোগ্য ব্যক্তিকে সদস্য করা হয়েছে। এমনকি চাঁদা বকেয়া থাকা সদস্যদের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দিয়ে সদস্যপদ নবায়নের অনৈতিক অভিযোগও রয়েছে।
বর্তমান পর্ষদের মেয়াদ গত বছরের নভেম্বরে শেষ হলেও পরবর্তীতে দুই দফায় তিন মাস করে মেয়াদ বাড়ানো হয়। দ্বিতীয় দফার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল আগামী ২১ মে। এর মধ্যেই ১৭ মে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তবে তফসিল ঘোষণার পরও আবার তিন মাস সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়, যা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে বর্তমান পর্ষদের মেয়াদ আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও বারবার মেয়াদ বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তে সাধারণ সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, এটি মূলত নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার একটি অপকৌশল।
বিজ্ঞাপন
সার্বিক বিষয়ে বিপিজিএমইএ’র বর্তমান সভাপতি শামীম আহমেদ বলেন, নিয়ম মেনেই মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তর দাবি, অন্য অনেক সংগঠনে প্রশাসক বসানো হলেও বিপিজিএমইএতে তার প্রয়োজন হয়নি, কারণ এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।
অন্যদিকে, সংগঠনটির সাবেক সভাপতি কে এম আলমগীর ইকবাল ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি গোষ্ঠী এই সংগঠন নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রকৃত শিল্প মালিকদের বাইরে অনেককে সদস্য করে ভুয়া ভোটার তৈরি করা হয়েছে। এভাবে নির্বাচন করে আবার ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা চলছে। তাই আমরা প্রশাসক নিয়োগের দাবি জানিয়েছি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংগঠনটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এসআই/বিআরইউ