বিজ্ঞাপন

সংবিধান সংস্কার অধিবেশন আহ্বানে বিলম্ব : সংসদে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন

অ+
অ-
সংবিধান সংস্কার অধিবেশন আহ্বানে বিলম্ব : সংসদে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন

‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর বিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। অধিবেশনে বিলম্ব হওয়াকে কেন্দ্র করে আজ রোববার জাতীয় সংসদে একটি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৬২ বিধি অনুসারে এই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রস্তাবটি জমা দেন বিরোধীদলীয় নেতা।

মুলতবি প্রস্তাবে ড. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থান ও জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশেই তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছিল। এরপর ৮ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ প্রণীত হয়।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়, গত ২৫ নভেম্বর ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারির পর ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কারের পক্ষে নিরঙ্কুশ রায় প্রদান করেন।

বিজ্ঞাপন

শপথ ও আইনি জটিলতা
গণভোটের রায়ের ফলে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য ‘সংসদ সদস্য’ ও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য’ হিসেবে দ্বৈত শপথ গ্রহণ আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের আয়োজন করা হলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সদস্যরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানান। তবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ৭৭ জন সংসদ সদস্য পৃথকভাবে উভয় পদের শপথ পাঠ করেন।

অধিবেশন আহ্বানে আইনি বাধ্যবাধকতা
মুলতবি প্রস্তাবে ড. শফিকুর রহমান দাবি করেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ১০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করার বিধান রয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলেও সরকার এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

এর আগে গত ১৫ মার্চ বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করা হলে স্পিকার তাকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রদানের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশনার আলোকেই আজ এই মুলতবি প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হলো। প্রস্তাবে বলা হয়, জাতির প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করে এমন সাংবিধানিক অচলাবস্থা তৈরি করা কাম্য নয়। জনগুরুত্ব বিবেচনা করে অবিলম্বে এ বিষয়ে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার জন্য স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এসআর/বিআরইউ

বিজ্ঞাপন