হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৮ কেজি (১৫৩টি) সোনা উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য উন্মোচনে তৎপর হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরইমধ্যে বিমানের বিভিন্ন পর্যায়ের সাত কর্মকর্তাকে গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন কর্মকর্তার ডিভাইস ফরেনসিকের জন্য সিআইডির কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যেসব কর্মকর্তারা সন্দেহের তালিকায় তাদের ইনফরমাল জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। জিজ্ঞাসাবাদে কারো সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে পরে ফরমালি তাদেরকে নিয়ে আসা হবে এবং মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এ বিষয়ে সোমবার (৩০ মার্চ) বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোবারক হোসেন বলেন, গতকাল এ বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে। মামলার আসামি সবায় অজ্ঞাত।
এ ঘটনায় বিমানের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা তো একটি নিয়মের মধ্যে করতে হবে। মামলা হয়েছে, আমরা এই বিষয়ে তদন্ত করছি, প্রয়োজনের সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এছাড়া এই চালানোর গন্তব্য কোথায় এখনো জানা যায়নি, সেটি আমরা তদন্তে বের করব।
বিজ্ঞাপন
তবে এ বিষয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, প্রথমত যে স্থান থেকে সোনাগুলো উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানে একজন সাধারণ যাত্রীর পক্ষে সোনা রাখা দূরের কথা, সহজে প্রবেশ করাই সম্ভব না। এ ক্ষেত্রে শতভাগ নিশ্চিত যে, সোনাগুলোর রাখার বিষয়ে বিমানের একাধিক ব্যক্তি জড়িত। সেই ব্যক্তিগুলো চিহ্নিত করতেই কাজ করা হচ্ছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাতে দুবাই থেকে আসা বিমানের ফ্লাইটে তল্লাশির পর মোট ১৭ কেজি ৯০১ গ্রাম ওজনের ১৫৩টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। এর বাজারমূল্য প্রায় ৩৮ কোটি টাকা।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ফ্লাইটটিকে অবতরণের পর থেকেই নজরদারিতে রাখেন। অবতরণের পর এভসেকের সহায়তায় কার্গো কম্পার্টমেন্ট তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে টয়লেট প্যানেলের ভেতর সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় সোনার বারগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া সোনা বিমানবন্দর কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এমএসি/জেডএস
