গালফ অঞ্চলে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনে। কাজ চালু থাকলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি, আয় কমে যাওয়া এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বুধবার (১ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, সংঘাতের কারণে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলভুক্ত দেশগুলোতে লাখো প্রবাসী শ্রমিকের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চলমান পরিস্থিতির কারণে অনেক শ্রমিক এখন একদিকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, অন্যদিকে কাজ ও আয়ের অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
সংস্থাটি বলছে, সংঘাত-সম্পর্কিত ঘটনায় ইতোমধ্যে কয়েকজন প্রবাসী শ্রমিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
চলমান পরিস্থিতির কারণে শ্রমিকদের আয় কমে গেছে। বিশেষ করে যারা কমিশনভিত্তিক কাজে যুক্ত, যেমন-ড্রাইভার বা ডেলিভারি কর্মী। তাদের আয় অনেক ক্ষেত্রে অর্ধেকে নেমে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। শ্রমিকরা বলছেন, অনেক খাদ্যপণ্যের দাম আগের তুলনায় দ্বিগুণ বা তিনগুণ পর্যন্ত বেড়েছে।
পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতেও পড়েছে প্রভাব। অনেক কর্মীকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে, কারও বেতন কমানো হচ্ছে, আবার কেউ চাকরি হারাচ্ছেন। কিছু ক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিজ খরচে দেশে ফেরার কথাও বলা হচ্ছে, যা তাদের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, গালফ দেশগুলোর উচিত শ্রমিকদের সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। সংস্থাটি ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ানো এবং প্রয়োজন হলে শ্রমিকদের দেশে ফেরার সুযোগ সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিভাগের উপপরিচালক মাইকেল পেজ বলেন, এই সংকট বিদ্যমান শ্রমব্যবস্থার দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করেছে, বিশেষ করে কাফালা পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা।
এনআই/এনএফ
