বিজ্ঞাপন

ডিসি জাহিদের সহায়তায় বিয়ের পিঁড়িতে ৪ কন্যা

অ+
অ-
ডিসি জাহিদের সহায়তায় বিয়ের পিঁড়িতে ৪ কন্যা

মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে, কিন্তু ঘরে নেই আয়োজনের সামর্থ্য, এমন অসহায় বাবা, ভাই ও অভিভাবকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে আসা কন্যা দায়গ্রস্ত অভিভাবকদের আবেদন শুনে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন, যা অনেক পরিবারের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস হয়ে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১ এপ্রিল) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে মেয়ের ও বোনের বিয়ের খরচ জোগাতে না পারা একাধিক আবেদনকারী সরাসরি তার দ্বারস্থ হন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে চারজন অভিভাবককে মেয়ে ও বোনের বিয়ের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।

বাঁশখালীর দিনমজুর নাজমুল হক বলেন, ডিসি স্যার এত লোকের ভিড়ের মাঝেও আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং আমার বোনের বিয়ের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। 

বিজ্ঞাপন

পূর্ব বাকলিয়ার কাঠমিস্ত্রি মো. জামাল উদ্দিন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, আমি মেয়ের বিয়ের জন্য অনেকের কাছে সাহায্য চেয়েছি, কিন্তু কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। ডিসি স্যার শুধু অর্থ সহায়তাই করেননি, আমার মেয়ের জন্য দোয়া করেছেন, এতে আমি অনেক খুশি।

কোতোয়ালীর বুলবুলি দাশ লিখিত আবেদনে জানান, তার স্বামী মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ায় সংসারের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যেই মেয়ের বিয়ে সামনে, যা তার জন্য এক অসম্ভব চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলা প্রশাসক তাকেও নিরাশ করেননি। 

এমন মানবিক সহায়তার মধ্য দিয়েই কন্যা দায়ে জর্জরিত পরিবারগুলোর জন্য এক আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে জেলা প্রশাসকের গণশুনানি।

বিজ্ঞাপন

বাঁশখালীর পুঁইছড়ি এলাকার সেলুন কর্মী বিধান সুশীল অল্প আয়ে তিন মেয়েকে নিয়ে কোনোভাবে সংসার চালান। এরই মধ্যে এক মেয়ের বিয়ের তারিখ ঠিক হলেও খরচের চিন্তায় তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন। চোখে পানি নিয়ে তিনি বলেন, কোনোমতে খেয়ে না খেয়ে দিন চলে, মেয়ের বিয়ের খরচ বহন করা আমার পক্ষে সম্ভব না।

তার এই অসহায় আবেদন শুনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা মেয়ের বিয়ের জন্য তাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন, যা তার পরিবারে স্বস্তির নিঃশ্বাস এনে দেয়।

তবে শুধু বিয়ের আবেদনই নয়, এই গণশুনানিতে উঠে আসে সমাজের নানামুখী সংকটের চিত্রও।

আকবরশাহ্ এলাকার মো. বাবুল ও মো. আবুল হাসিম অসুস্থতার কারণে কর্মহীন হয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

বাকলিয়ার গোলজার বেগম স্বামী ও একমাত্র সন্তান হারিয়ে একা হয়ে পড়েছেন। অসুস্থ শরীর নিয়ে অন্যের বাসায় কাজ করেও চিকিৎসা চালাতে পারছেন না।

চোখের ছানি রোগে আক্রান্ত মৃদুল দাশ অপারেশনের খরচ জোগাতে না পেরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। দিনমজুর আজিজুল হক অসুস্থ সন্তানদের নিয়ে দিশেহারা অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন।

স্বামী হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে কষ্টে আছেন রিনা আক্তার, আর সাহিদা আক্তার সুমি তার অসুস্থ স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন।

আনোয়ারার মনোয়ারা ব্রেস্ট ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন, যার চিকিৎসা খরচ বহন করা দিনমজুর স্বামীর পক্ষে সম্ভব নয়।

চান্দগাঁওয়ের কোহিনুর আক্তার তার প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে অসহায় জীবন কাটাচ্ছেন।

রাউজানের মো. শাহ আলম দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাহীন অবস্থায় আছেন, পাশাপাশি জমি বিরোধের কারণে দীর্ঘদিন ঘরছাড়া জীবনযাপন করছেন।

এসব আবেদন শুনে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি যেসব সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান সম্ভব নয়, সেগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন এবং আবেদনকারীদের অগ্রগতি জানাতে বলেন।

গণশুনানিতে অংশ নেওয়া অনেকেই বলেন, আমাদের কথা শোনার কেউ নেই, এখানে এসে অন্তত একজন আমাদের কথা শুনেছেন।

স্থানীয়দের দাবি জেলা প্রশাসকের এই গণশুনানি প্রমাণ করেছে, প্রশাসন শুধু দাপ্তরিক কাঠামো নয়, এটি হতে পারে অসহায় মানুষের শেষ আশ্রয়। যেখানে একটি আবেদন শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং হয়ে ওঠে জীবনের নতুন আশার আলো।

এআর/এমএসএ