২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ৫ হাজার ৫১ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত করে চীনের বাইরে বিশ্বে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ ‘গ্রিনফিল্ড সক্ষমতা’ সংযোজনের রেকর্ড গড়েছে ভারতের আদানি গ্রিন এনার্জি লিমিটেড (এজিইএল)। এই বিপুল পরিমাণ সক্ষমতা যুক্ত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১৯ দশমিক ৩ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আদানি।
এতে জানানো হয়, নতুন সংযোজিত সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৪০৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ, ৬৮৬ মেগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ এবং ৯৫৬ মেগাওয়াট বায়ু-সৌর হাইব্রিড বিদ্যুৎ। এই সংযোজন প্রতিবছর প্রায় এক কোটি টন কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে ভূমিকা রাখবে। সামগ্রিকভাবে এজিইএলের পূর্ণ পোর্টফোলিও বার্ষিক ৩ কোটি ৬০ লাখ টন কার্বন অফসেটে সক্ষম হবে।
নতুন সক্ষমতার বড় অংশ স্থাপিত হয়েছে গুজরাটের খাভদায়, যেখানে বিশ্বের বৃহত্তম নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প নির্মাণ করছে আদানি গ্রিন এনার্জি। প্যারিস শহরের পাঁচগুণ আয়তনের সমান ৫৩৮ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত ভূমিতে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পটি ২০২৯ সালের মধ্যে ৩০ গিগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে চলছে। এখন পর্যন্ত সেখানে ৯ হাজার ৪১৩ মেগাওয়াট সক্ষমতা স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, খাভদা প্রকল্পে উন্নত প্রযুক্তির বাইফেসিয়াল সোলার মডিউল ব্যবহার করা হয়েছে, যা সরাসরি সূর্যালোক ও ভূমি থেকে প্রতিফলিত আলো– উভয় উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। সোলার ট্র্যাকারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা হচ্ছে। বায়ুবিদ্যুৎ অংশে ব্যবহৃত হচ্ছে ৫ দশমিক ২ মেগাওয়াট ক্ষমতার টারবাইন, যা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী স্থলভিত্তিক বায়ু টারবাইনগুলোর মধ্যে অন্যতম। পানিবিহীন রোবোটিক পরিষ্কার পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে সোলার প্যানেল রক্ষণাবেক্ষণে প্রায় শূন্য পরিমাণ পানি ব্যয় হচ্ছে।
এর পাশাপাশি খাভদায় ১ হাজার ৩৭৬ মেগাওয়াট-আওয়ার ক্ষমতার ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম চালু করা হয়েছে, যা বিশ্বের একক স্থানে অন্যতম বৃহত্তম এ ধরনের স্থাপনা। নির্মাণকাজ শুরুর মাত্র আট মাসের মধ্যে এটি চালু হয়েছে, যা জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সংযোজন এবং গ্রিডের স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এজিইএলের নির্বাহী পরিচালক সাগর আদানি বলেন, ‘এই মাইলফলক ভারতকে বৈশ্বিক সবুজ জ্বালানি রূপান্তরের মানচিত্রে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আমাদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রম বারবার প্রমাণ করেছে যে অতি বৃহৎ পরিসরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি স্থাপন কেবল সম্ভবই নয়, বাস্তবায়নযোগ্যও।’
বিজ্ঞাপন
ওএফএ/বিআরইউ
