বাংলাদেশের পরিবহন খাত এখনও পুরোপুরি নিয়মতান্ত্রিক হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, এর ফলে এখনও যাত্রীসেবা, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং যানবাহন ব্যবস্থাপনায় নানা সমস্যা রয়ে গেছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউয়ে সংগঠনটির কার্যালয়ে রিপোর্টার্স ফর রেল অ্যান্ড রোড (আরআরআর)-এর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
পরিবহন খাতে সংস্কারের জন্য দুটি সহায়তা চেয়ে সাইফুল আলম বলেন, পরিবহন শৃঙ্খলায় প্রশাসনিকভাবে কঠোর সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বাস আমদানিতে কর ছাড় বা প্রণোদনা দিতে হবে। কারণ, ইলেকট্রিক বাস বা উন্নতমানের রিকন্ডিশন্ড বাস চালু করা গেলে সেবার মান বাড়বে এবং দূষণ কমবে। এ জন্য বাসের আমদানি নীতিতে কিছু শিথিলতাও আনতে হবে।
তিনি বলেন, গণপরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করে শৃঙ্খলা ফেরাতে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক ব্যবস্থায় যাওয়ার বিকল্প নেই। নির্দিষ্ট রুটে নির্দিষ্ট সংখ্যক বাস, প্রশিক্ষিত চালক এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি কোম্পানির অধীনে সেবা পরিচালনা করতে হবে। পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট) একটি রুটে ২০০ থেকে ৫০০ বাস নিয়ে এ ধরনের সেবা চালু করা সম্ভব। এতে যাত্রীরা নির্দিষ্ট স্টপেজে সারিবদ্ধভাবে ওঠানামা করবে, ই-টিকিটিং চালু হবে এবং যানজট কমবে।
ঢাকার বিভিন্ন টার্মিনালে প্রয়োজনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বাস অবস্থান করছে, যা সড়কে যানজট তৈরি করছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত টার্মিনালের বাইরে সড়ক ও আবাসিক এলাকায় বাস পার্কিং করা হচ্ছে, যা নগরজীবনে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এ সমস্যার সমাধানে রোটেশনভিত্তিক বাস পরিচালনা করতে হবে। নির্দিষ্ট সংখ্যক বাস টার্মিনালে থাকবে, বাকিগুলো নিজস্ব ডিপো বা নির্ধারিত পার্কিংয়ে থাকবে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চলাচল করবে।
বিজ্ঞাপন
টার্মিনাল এলাকা ও আশপাশে অবৈধ দোকান, টোকেন বাণিজ্য এবং প্রভাবশালীদের দখলদারিত্বকে বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, এসবের আড়ালে চাঁদাবাজি, টিকিট কালোবাজারি এবং যাত্রী হয়রানির ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া কাউন্টার খুলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এসব অনিয়ম বন্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং প্রশাসনের সহায়তায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে।
সাইফুল আলম বলেন, পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিকদের মধ্যেও কিছু অনিয়ম রয়েছে। শুধু মালিকদের একার পক্ষে শৃঙ্খলা আনা সম্ভব নয়। পুলিশ, সিটি কর্পোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি এম এ বাতেন, রিপোর্টার্স ফর রেল অ্যান্ড রোডের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. তাওহীদুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
এমএইচএন/এমএসএ
