জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৫ দ্রুত সংসদে পাস করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৮ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে সংস্থাগুলো এই আহ্বান জানায়। তারা সতর্ক করেছে যে, যদি এই অধ্যাদেশগুলো বিলুপ্ত করা হয়, তবে পুনর্জীবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ হবে।
এতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর ক্ষমতা গ্রহণ করা বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার একটি শক্তিশালী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পেয়েছে। এটি ভবিষ্যতের মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং পশ্চাদপদতার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। তবে সরকার অধ্যাদেশগুলোকে বিলুপ্ত করার এবং ভবিষ্যতে নতুন বিল আকারে আনার যে প্রস্তাব রেখেছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী সংস্থাগুলো হলো: আর্টিকেল ১৯, সিভিকাস: ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর সিটিজেন পার্টিসিপেশন, ফোর্টিফাই রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস, রবার্ট ও এথেল কেনেডি হিউম্যান রাইটস সেন্টার, টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট এবং ইউনাইটেড এগেইনস্ট টরচার কনসোর্টিয়াম (ইউএটিসি)। ইউএটিসি-এর সদস্য সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে—অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য প্রিভেনশন অফ টরচার, ইন্টারন্যাশনাল রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল ফর টরচার ভিকটিমস, ওমেগা রিসার্চ ফাউন্ডেশন, রিড্রেস এবং ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন এগেইনস্ট টরচার।
বিজ্ঞাপন
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা চারটি অধ্যাদেশ- জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ ও এর সংশোধনী এবং গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৫ ও এর সংশোধনী– মিলিতভাবে দেশের মানবাধিকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে। এই অধ্যাদেশগুলোর মাধ্যমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রথমবারের মতো নিরাপত্তা বাহিনী দ্বারা সংঘটিত লঙ্ঘন তদন্তের ক্ষমতা পেয়েছে এবং কারাগার পর্যবেক্ষণের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। এ ছাড়া কমিশনারদের অপসারণের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সুরক্ষা এবং গুমকে দেশের আইনে স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের জন্য প্রতিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত গুম কমিশনের তথ্যানুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে নিখোঁজ ও নির্যাতনের ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে এবং ২৮৭ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এই অধ্যাদেশগুলো এসব ঘটনা তদন্তের আইনি সুযোগ নিশ্চিত করেছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো অভিমত দিয়েছে যে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে সরকার থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন হতে হবে এবং এটি কোনো সরকারি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে থাকা উচিত নয়। নিরাপত্তা বাহিনীর তদন্তের জন্য সরকারের অনুমতি চাওয়া বা কমিশনার নির্বাচনে সরকারি প্রতিনিধির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা প্রতিষ্ঠানটির স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা ক্ষুণ্ণ করবে। সংস্থাগুলো সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে, অধ্যাদেশগুলোকে বিলুপ্ত না করে বরং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী আরও শক্তিশালী করা হোক এবং গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ থেকে মৃত্যুদণ্ডের বিধান অপসারণ করা হোক।
বিজ্ঞাপন
এনআই/বিআরইউ
