বিজ্ঞাপন

আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন

হেল্পলাইন ১০৯: ৮৭ লাখের বেশি নারী ও শিশুকে সেবা প্রদান

অ+
অ-
হেল্পলাইন ১০৯: ৮৭ লাখের বেশি নারী ও শিশুকে সেবা প্রদান

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ‘১০৯’-এর মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৮৭ লাখ ৮ হাজার ১৪৯টি কলে সেবা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞাপন

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্যের তারকা চিহ্নিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, সপ্তাহের ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা এই হেল্পলাইনের মাধ্যমে নির্যাতনের শিকার নারী, শিশু, তাদের পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও আইনি সহায়তা জোরদারে সরকার বিভিন্ন আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত ২০২০), পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন ২০১০, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এবং যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮। এছাড়া ডিএনএ আইন ২০১৪-এর মাধ্যমে অপরাধী শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের তাৎক্ষণিক সুরক্ষায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট— এই ছয়টি বিভাগীয় শহরে ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেল’ এবং সাময়িক অবস্থানের জন্য ‘সেইফ হোম’ পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী জানান, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের এক স্থান থেকে সকল সেবা দিতে ৩৭টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ১৪টি ওসিসি চালু আছে, যেখান থেকে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮০ হাজার ৩৯৫ জন চিকিৎসাসহ আইনি ও পুলিশি সহায়তা পেয়েছেন। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বর্তমানে ৬৭টি ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেল কার্যকর রয়েছে, যেখান থেকে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৭০ জন সেবা গ্রহণ করেছেন।

দ্রুত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে ন্যাশনাল ফরেনসিক প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং সাতটি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ৪০ হাজার ৪০৫টি নমুনার ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন হয়েছে।

পাশাপাশি শিশুদের মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সিলিং সেন্টার এবং চারটি আঞ্চলিক ট্রমা কাউন্সিলিং সেন্টারের মাধ্যমে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৬২১ জন নারী ও শিশুকে মনোসামাজিক কাউন্সেলিং প্রদান করা হয়েছে বলে মন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন।

বিজ্ঞাপন

এমএসআই/এমএআর/