বগুড়া-শেরপুরে নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র থেকে জাল ভোট দিয়ে এজেন্টদের বের করে দেওয়া ও আগে স্বাক্ষর নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। এসব কেন্দ্রে রিটার্নিং অফিসারদের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে দলটি।
বিজ্ঞাপন
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১টায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির প্রেক্ষিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, যেসব কেন্দ্রে জালভোট এবং এজেন্ট বের করে দেওয়া হয়েছে, এরকম কেন্দ্রের নাম এবং তালিকা প্রমাণসহ নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হবে।
বিভিন্ন কেন্দ্রে এজেন্টদের আগেই স্বাক্ষর নিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির খেলাপ। প্রিজাইডিং অফিসার জোর করে আমাদের এজেন্টদের কাছ থেকে রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর করে নিয়েছেন। যার নিয়ম হলো ভোট গ্রহণ শেষ হবে, গণনা শেষ হবে, ফলাফল তৈরি হবে তখন রেজাল্ট শিটে সব প্রার্থীর এজেন্টরা স্বাক্ষর করবেন। ভোটও শেষ হয়নি, গণনাও হয়নি, স্বাক্ষর করবেন কিভাবে? এতে করে ইচ্ছামতো ভোটের সংখ্যা বসিয়ে দিতে পারবেন প্রিসাইডিং অফিসার।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, আরেকটি গুরুতর অভিযোগ জাল ভোট দিয়ে সিল মারা হচ্ছে এবং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। শেরপুরে নির্বাচনী এলাকার ১৩টা ভোটকেন্দ্র থেকে জোর করে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে এবং জাল ভোট দেওয়া হচ্ছে সিল মেরে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, এক দেড় মাস হলো অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা বলে আন্দোলন করা, সংগ্রাম করা, জীবন দেওয়া ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের রাজনৈতিক দলগুলোর একটি বড় দল এখন ক্ষমতায়। তাদের হাতে প্রথম দুটো উপনির্বাচনের এই যদি চিত্র হয় তো সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ আর যেসব নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনে আমরা কী করে ভোটারদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন আশা করতে পারি?
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশে তিনি বলেন, যেসব কেন্দ্র থেকে জাল ভোট দিয়ে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হচ্ছে, আগে স্বাক্ষর নেওয়া হচ্ছে, সেইসব রিটার্নিং অফিসারদের প্রতি আপনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। ব্যাপক অনিয়ম যেখানে হয়েছে সেখানে আপনি ভোট স্থগিত করুন। পুনরায় ভোটের ব্যবস্থা করুন। নাহলে জনগণ এরকম জোরপূর্বক একতফা নির্বাচনের ফলাফল তো মেনে নেবে না। যেসব কেন্দ্রে জালভোট এবং এজেন্ট বের করে দেওয়া হয়েছে এরকম কেন্দ্রের নাম এবং তালিকা আমাদের হাতে আছে।
বিজ্ঞাপন
‘সন্ত্রাসী পেটোয়া বাহিনী’ নারী ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এই জামায়াত নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— জামায়াতে ইসলামীরত সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম, অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন মোল্লা।
জেইউ/এনএফ
