বিজ্ঞাপন

দুর্নীতি অনুসন্ধানের মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দর কর্মকর্তার পদোন্নতি

অ+
অ-
দুর্নীতি অনুসন্ধানের মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দর কর্মকর্তার পদোন্নতি

দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান থাকার মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরের এক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সহকারী জাহাজ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেনকে জাতীয় বেতন স্কেলের দশম গ্রেডের ইন্সপেক্টর ক্রাফটস পদে উন্নীত করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর আগে একই অভিযোগের কারণে তার পদোন্নতির বিষয়টি স্থগিত রাখা হলেও এবার বোর্ডের সিদ্ধান্তে তা অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

বন্দর সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৬ এপ্রিল) দেলোয়ার হোসেনের পদোন্নতির বিষয়টি বোর্ডে উপস্থাপন করা হয়। পরদিন বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুকের সই করা চিঠিতে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত কার্যকর করার বিষয়টি জানানো হয়। এর আগে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর একই কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য বোর্ড বসেছিল। তবে সে সময় তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চলমান থাকায় বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়েছিল। যদিও একই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মো. নায়েবুল ইসলাম ফটিককে সম্প্রতি চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর ও দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বন্দরের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে নিয়োগ-বাণিজ্য, জাহাজ ক্রয়ে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন নৌ বিভাগের উপসংরক্ষক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জহিরুল ইসলাম, সহকারী জাহাজ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন, সিবিএর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. নায়েবুল ইসলাম ফটিক, নৌ বিভাগের প্রথম শ্রেণির মাস্টার ইব্রাহিম সেলিম এবং ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পরিবহন পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম রনি। 

দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়োগ-বাণিজ্য, কর্মস্থলে প্রভাব, দুর্নীতি করে সম্পদ গড়া, জাহাজ ক্রয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগটি ছিল চট্টগ্রাম বন্দরের এমটি কান্ডারি-১০ জাহাজের জন্য নতুন দুটি ম্যান ইঞ্জিন বাবদ ১৪ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো। আবার ওই জাহাজে গিয়ার বক্স পরিবর্তনের নামে আরও ১৭ কোটি টাকা ফাইলে নোট দিয়েছিলেন তারা। এ ছাড়া আরও কয়েকটি ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ আনা হলেও শুরুতে তেমন কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করেনি দুদক। তবে অভিযোগের এক বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরুর নির্দেশনা আসে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে। 

বিজ্ঞাপন

একই বছরের ১১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২-এর তৎকালীন উপপরিচালক মো. আতিকুল আলম চট্টগ্রাম বন্দরের প্রভাবশালী এই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান শুরু করেন। গত বছরের এপ্রিলে আতিকুল আলম বদলি হয়ে গেলে অনুসন্ধানের দায়িত্ব পড়ে আরেক তৎকালীন উপপরিচালক আহসানুল কবীর পলাশের ওপর। উপপরিচালক হিসেবে আহসানুল কবীর পলাশ গত বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে চট্টগ্রামে যোগদান করার পর অনুসন্ধান কার্যক্রমে শুরু করেন। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের সংশ্লিষ্ট বিভাগ পরিদর্শন করেন। কিন্তু গত বছরের জুলাইয়ের শেষ দিকে তিনিও বদলি হয়ে যান। 

তারপর কাজ শুরু করেন উপসহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিনে। তিনি জানান, উল্লিখিত অভিযোগে অনেকগুলো টেকনিক্যাল বিষয় রয়েছে। এই কারণে আমরা নিরপেক্ষ সংস্থার প্রতিনিধি দিয়ে টেকনিক্যাল বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করব। এই লক্ষ্যে কয়েকদিনের মধ্যেই আমরা চিঠি ইস্যু করব।

এই বিষয়ে বন্দরের জাহাজ পরিদর্শক হিসেবে দেলোয়ার হোসেনকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাছাড়া খুদে বার্তা পাঠিয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, পদোন্নতির বিষয়টি বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। একক কারও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে না। বোর্ডে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিও থাকেন। হয়তো বোর্ড তাকে যোগ্য মনে করেছেন, একারণে তার পদোন্নতি হয়েছে। 

এর আগে, একই অভিযোগে পদোন্নতি না হওয়ার বিষয়টি অবহিত করা হলে তিনি জানান, আগের বার হয়তো কাগজপত্র বা যোগ্যতার ক্ষেত্রে সমস্যা ছিল। এখন সেই সমস্যা নেই।

এমআর/এনএফ