রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এলেক্স গ্রুপের মূলহোতা ইমন ওরফে এলেক্স ইমন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় দেশীয় অস্ত্রসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী বেড়িবাঁধ সড়কের ঢালে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা।
তিনি বলেন, রায়ের বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এলেক্স ইমনকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে রায়েরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।
অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, মো. সাইফ (২৩), তুহিন (২০) ও মো. রাব্বি কাজী (২৫)। তারা সবাই ইমনের প্রতিপক্ষ গ্রুপের সদস্য। এসময় তাদের কাছ থেকে ৩টি চাপাতি, ১টি কাটার ও ১টি স্টিলের পাত উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
ইমনের বিষয়ে মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এলেক্স ইমন রায়ের বাজার এলাকা চিহ্নিত কিশোর গ্যাং চক্রের মূলহোতা। তিনি এলেক্স গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন। তার বিরুদ্ধে ছিনতাই, হত্যাসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। এই বিষয়ে আমরা কাজ করছি।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, এই ঘটনায় শারুখ, আরমান, কাইল্লা বাদল, কাল্লু, ইয়াসিন, চিকু শাকিল, ভান্ডারী ইমন, নেকেট শাকিলসহ আরও অনেকের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
জানা যায়, রায়েরবাজার এলাকায় এলেক্স ইমন গ্রুপ ও আরমান-শাহরুখ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে আজ বিকেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ লাগে। এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ইমন গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। বর্তমানে ইমনের মরদেহ জরুরি বিভাগ মর্গে রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ঢাকা পোস্টের হাতে এসেছে। এতে দেখা যায়, অস্ত্র হাতে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে ধাওয়া করছে। এই সময়ে ইমন পড়ে যায়। তার হাতেও ধারালো অস্ত্র ছিল। তবে প্রতিপক্ষের লোকজন যখন হামলা করে তখন অস্ত্র ফেলে বাঁচার চেষ্টা করে। কিন্তু ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তার দুই পা, হাঁটু, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
এসএএ/এসএম
