ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেছেন, দেশে ইন্টারনেট সেবার বিস্তারে বেসরকারি খাতের অবদান উল্লেখযোগ্য। কিন্তু এরপরও নানা নীতিগত সীমাবদ্ধতা ও কাঠামোগত সমস্যার কারণে এই খাতের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো আয়োজিত তিনদিনব্যাপী ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমিনুল হাকিম বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৫০ লাখ পরিবার ব্রডব্যান্ড সংযোগের আওতায় এসেছে। তবে আইএসপি খাতের বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করে অতিরিক্ত আরও ১ কোটি ৬০ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ পরিবারকে দ্রুত সংযুক্ত করা সম্ভব। কিন্তু ‘একটিভ শেয়ারিং’ নীতিমালা না থাকায় বিপুল পরিমাণ নেটওয়ার্ক অব্যবহৃত পড়ে আছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, একটি এলাকায় একাধিক আইএসপি আলাদা করে অবকাঠামো তৈরি করায় একই ধরনের বিনিয়োগ বারবার হচ্ছে, অথচ প্রতিটি নেটওয়ার্কের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহারই হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে একটিভ শেয়ারিং চালু হলে খরচ কমবে, সেবার মান বাড়বে এবং দ্রুত ব্রডব্যান্ড বিস্তার সম্ভব হবে।
আইএসপিএবি সভাপতি বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে আইএসপি খাতে। কিন্তু এর মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে। বাকি অংশ অব্যবহৃত থাকায় বিনিয়োগের যথাযথ সুফল মিলছে না।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারীর হার ৮ থেকে ১০ শতাংশ হলেও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে তা ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ ধরা হয়েছে। তবে ডিভাইস পেনিট্রেশন কম থাকাও একটি বড় বাধা। মানুষের হাতে পর্যাপ্ত সক্ষম ডিভাইস না থাকলে ব্রডব্যান্ড বিস্তারও সীমিত থাকবে।
সেবার মান নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইএসপির পাশাপাশি গ্রাহকের ব্যবহৃত ডিভাইসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিম্নমানের বা সিঙ্গেল ব্যান্ড রাউটার ব্যবহারের কারণে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত গতি পাওয়া যায় না। তাই উন্নতমানের ডিভাইস ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। তাছাড়া দেশে প্রায় ২ হাজার ৫০০ আইএসপি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই সংখ্যা যথেষ্ট। আমরা নতুন করে আর লাইসেন্স না দেওয়ার আহ্বান জানাই।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, আইএসপি খাতে বিনিয়োগ তুলনামূলক কম, কারণ এই খাতের বাজার আকার মাত্র ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকা, যেখানে মোবাইল অপারেটরদের বাজার হাজার হাজার কোটি টাকার। তাই একইভাবে বিনিয়োগ প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়।
নীতিগত বিষয়ে তিনি টেলিকম পলিসি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইএসপি খাতকে ‘ফিক্সড টেলিফোন সার্ভিস প্রোভাইডার’ হিসেবে উল্লেখ না করে ‘আইএসপি’ নামেই রাখার দাবি জানান। পাশাপাশি ডিভিশনাল আইএসপিদের জন্য আপগ্রেড ও ডাউনগ্রেডের সুযোগ রাখার প্রস্তাব দেন। সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল ব্যবহারের নীতিমালায় পরিবর্তন এনে শহর ও বস্তি এলাকাসহ সব জায়গায় ব্রডব্যান্ড বিস্তারে তা ব্যবহার করা উচিত।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান এ. আসাদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আবদুন নাসের খান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী এবং আইএসপিএবির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম ভূঁইয়া।
আরএইচটি/এমএসএ
