বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামে নেচে-গেয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা : পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

অ+
অ-
চট্টগ্রামে নেচে-গেয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা : পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন দুই নম্বর গেট এলাকায় নেচে-গেয়ে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দেড় বছর পর অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। ছিনতাইকারী সন্দেহে ‘মব’ তৈরি করে শাহাদাত হোসেনকে মারধর করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত ৮ এপ্রিল পাঁচলাইশ থানা পুলিশ চট্টগ্রাম আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেয়। বিষয়টি সোমবার (১৩ এপ্রিল) জানাজানি হয়।

মামলায় এক কিশোরসহ মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন, ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী (৪৩), আনিসুর রহমান (২০), মেহেদী হাসান (২৭) ও মো. মাজেদ (২২)। এছাড়া ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। 

বিজ্ঞাপন

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঘটনার সময় শাহাদাতের দুই হাত স্টিলের পাইপে বেঁধে রাখা হয়। পরে তাকে ঘিরে গান-বাজনার মধ্যেই বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হলে লাশ অটোরিকশায় করে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে নালার পাশে ফেলে রাখা হয়।

নিহত শাহাদাত হোসেন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার পাঁচবাড়িয়া ইউনিয়নের নদনা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানার বিআরটিসি এলাকার বয়লার কলোনিতে থাকতেন এবং ফলমণ্ডির একটি দোকানে কাজ করতেন।

২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট প্রবর্তক মোড় এলাকার নালার পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি দেখে তার বাবা মো. হারুন লাশ শনাক্ত করেন। পরদিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট দুপুরে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন শাহাদাত। সন্ধ্যায় স্ত্রীর সঙ্গে শেষবার কথা হয় তার। এরপর গভীর রাত পর্যন্ত বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনার প্রায় এক মাস পর, ২১ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন তরুণ গান গাইছে ও বাঁশি বাজাচ্ছে, আর তাদের মাঝখানে হাত বাঁধা এক যুবককে মারধর করা হচ্ছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার চার দিনের মধ্যে পুলিশ ফরহাদ, আনিসুর ও এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। 

পরে ওই কিশোর আদালতে জবানবন্দিতে জানায়, ছিনতাইকারী সন্দেহে ১৫ থেকে ২০ জন মিলে শাহাদাতকে মারধর করে এবং সেও এতে অংশ নেয়।

অভিযোগপত্রে ২০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী খিচুড়ি বিক্রেতা মীর নাজমুল হোসেন জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি কম থাকায় শিক্ষার্থীরা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছিল। ১৩ আগস্ট রাত ১১টার দিকে দুই নম্বর গেট এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যালের সঙ্গে শাহাদাতকে বেঁধে মারধর করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম সফিউল আজম মুন্সী বলেন, ভিডিও ও জবানবন্দির ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ছিনতাইকারী সন্দেহে তাকে নেচে-গেয়ে মারধর করা হয় এবং পরে লাশ অন্যত্র ফেলে রাখা হয়। সোহান ও আসিফ উল মেজবাহ নামে আরও দুজনকে শনাক্ত করা গেলেও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না পাওয়ায় তাদের আসামি করা যায়নি। ঠিকানা পাওয়া গেলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

আরএমএন/এমএসএ