বিজ্ঞাপন

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, নদী দখলে হবে কঠোর শাস্তি : ডা. জাহেদ

অ+
অ-
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, নদী দখলে হবে কঠোর শাস্তি : ডা. জাহেদ

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ব্যবসা, পরিবহন ও নির্মাণ খাতে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। যদিও এখনও চাঁদাবাজি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবে এটি একটি দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যা। এটি বন্ধে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে তবে এক্ষেত্রে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নদী রক্ষা কমিশন আইন সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। এই আইনের আওতায় নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধে তৎপরতা বাড়ানো এবং কারাগার ব্যবস্থাকে শাস্তিমূলক থেকে সংশোধনমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন খাতে জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যাগুলো ধাপে ধাপে সমাধানের চেষ্টা চলছে। 

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, শিশুদের টিকা দেওয়ার পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে সময় লাগে এবং অতীতে টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতির কারণে কিছু শিশু কভারেজের বাইরে ছিল। তবে শিশুদের মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং আক্রান্তদের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে, যদিও সম্পদের সীমাবদ্ধতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, নদী রক্ষা কমিশন আইন সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। এই আইনের আওতায় নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। অপরাধীদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা ১৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

হজযাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগের তুলনায় প্রতি টিকিটে প্রায় ১২ হাজার টাকা খরচ কমানো হয়েছে এবং চার্টার ফ্লাইট পরিচালনা ছাড়াই ৭৮ হাজারের বেশি যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ বলে দাবি করেন তিনি।

পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, পাহাড় কাটা বন্ধে এক্সকাভেটর ব্যবহারে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। ইটভাটায় কৃষিজমির মাটি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং টপসয়েল রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, কারণ এটি খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

বিজ্ঞাপন

ক্রীড়া খাতে উন্নয়নের অংশ হিসেবে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী জুলাই মাসে সেখানে নারী ক্রীড়া আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া ২৬টি ফুটবল দলকে অনুদান দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে শ্যামপুর খাল উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় আধুনিক নেটিং ব্যবস্থা, হাঁটার রাস্তা ও নগরবাসীর জন্য বিনোদনমুখী অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের অনেক নীতিগত সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছিল, তবে এখন সেগুলোর বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং সব খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আরএইচটি/এমএন