বিজ্ঞাপন

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট

টেলিকম সেবা সচল রাখতে অংশীজনদের সঙ্গে বসছে বিটিআরসি

টেলিকম সেবা সচল রাখতে অংশীজনদের সঙ্গে বসছে বিটিআরসি

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় দেশব্যাপী টেলিকম সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্ক, ডাটা সেন্টার ও গুরুত্বপূর্ণ টেলিকম অবকাঠামো সচল রাখার উপায় খুঁজতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আগামীকাল (২২ এপ্রিল) প্রথমধাপের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন, মোবাইল অপারেটর, এনটিটিএন অপারেটর, টাওয়ারকো অপারেটর এবং অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস বাংলাদেশের (এমটব) প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

বিটিআরসি সূত্রে আরও জানা গেছে, পরদিন বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, পিজিসিবি, বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি এবং টেলিকম সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের সঙ্গেও আরেকটি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
কমিশন সংশ্লিষ্টরা জানান, চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ জোরদার করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

মোবাইল নেটওয়ার্ক, ডাটা সেন্টার ও কোর নেটওয়ার্ক সাইটগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ এবং লোডশেডিংমুক্ত বিদ্যুৎ নিশ্চিতের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সেজন্য গত ১২ মার্চ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠিয়ে জ্বালানি ও বিদ্যুতের অগ্রাধিকার বরাদ্দ নিশ্চিতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায় বিটিআরসি। পরে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় ১৩ মার্চ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং দেশের সব জেলা প্রশাসকের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে চিঠি পাঠায়।

এছাড়া, মোবাইল অপারেটর ও টাওয়ার কোম্পানিগুলোর জ্বালানি পরিবহন এবং টাওয়ার সাইটগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নিশ্চিত করতে গত ২০ এপ্রিল বিটিআরসি আবারও ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে।

উল্লেখ্য, এবছরের মার্চ মাস পর্যন্ত দেশে মোবাইল ফোন গ্রাহকের সংখ্যা ১৮ কোটি ৬০ লাখ এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১১ কোটি ৪৮ লাখ। বর্তমানে দেশব্যাপী মোট ৪৬ হাজার ১৭৬টি টেলিকম টাওয়ার রয়েছে।

এছাড়া সারাদেশে টাওয়ার কোম্পানি ও মোবাইল অপারেটরদের মোট ৯৮ হাজার ৫১৪টি বেইজ ট্রান্সসিভার স্টেশন (বিটিএস) চালু রয়েছে। যার মধ্যে টু-জি ৪৮ হাজার ৪০৬টি, থ্রি-জি ১ হাজার ৪৭টি এবং ‘ফোর-জি’ বিটিএস স্টেশনের সংখ্যা ৪৮ হাজার ৬৩০টি।

আরএইচটি/বিআরইউ