দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে টেলিযোগাযোগ সেবা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে টেলিকম টাওয়ার কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত সংগঠন ‘বাংলাদেশ টাওয়ারকো অ্যাসোসিয়েশন’ (বিটিএ)। এই খাতের বিপর্যয় এড়াতে টেলিযোগাযোগকে ‘জরুরি সেবা’র আওতায় এনে বিশেষ জ্বালানি বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিটিএ জানায়, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জাতীয় পর্যায়ে বড় ধরনের যোগাযোগ বিপর্যয় ঘটতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এক আলোচনায় সংগঠনটি এই আশঙ্কার কথা তুলে ধরে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো। বর্তমানে সারা দেশে ৪৫ হাজারেরও বেশি টেলিকম টাওয়ার রয়েছে, যা সচল রাখতে বিদ্যুৎ গ্রিডের পাশাপাশি ব্যাকআপ হিসেবে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু জ্বালানি ঘাটতির কারণে এসব টাওয়ার সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে কোটি কোটি গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং সেবা, আইটি খাত ও জরুরি জনসেবা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বিটিএর অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি এবং ইডটকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুনীল আইজ্যাক বলেন, বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ সেবা এখন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে আছে। ছোট-বড় ব্যবসা থেকে শুরু করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল সংযোগের ওপর নির্ভরশীল। সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে প্রতিটি সেক্টর ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি বরাদ্দ ও প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এমন অবস্থায় ডিজিটাল অর্থনীতি সচল রাখতে এবং বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি এড়াতে সরকারকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগাদা দিয়েছে সংগঠনটি।
আরএইচটি/এমএন
