দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর গণপরিবহন বাসের ভাড়া সমন্বয় করেছে সরকারের সড়ক পরিবহন বিভাগ। তবে বাস্তবে এর প্রভাব এখনো পুরোপুরি দেখা যায়নি। জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে রাজধানীর সড়কে বাসের সংখ্যা আগের মতোই কম রয়েছে। একই সঙ্গে অধিকাংশ বাস এখনো যাত্রীদের কাছ থেকে আগের ভাড়াই নিচ্ছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর প্রগতি সরণি, রামপুরা, বাড্ডা ও নতুন বাজার এলাকায় সরেজমিন ঘুরে এবং বিভিন্ন কোম্পানির বাসের কন্ডাক্টর ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রামপুরা থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত সড়কে যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। নির্দিষ্ট বিরতি দিয়ে একটি-দুটি বাস চলাচল করছে। আগে যেখানে একসঙ্গে একাধিক বাস পাল্লা দিয়ে চলত, এখন সেই দৃশ্য আর চোখে পড়ছে না। অনেক জায়গায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই সড়কে বাসের সংখ্যা কমে গেছে। এতে করে প্রতিটি বাসেই অতিরিক্ত যাত্রী উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে ভিড়ের কারণে বাস থামলেও যাত্রীরা উঠতে পারছেন না। বিশেষ করে অফিস সময়গুলোতে পরিস্থিতি আরও বেশি ভোগান্তিকর হয়ে উঠছে।
রামপুরা ব্রিজ এলাকায় অনাবিল বাসের কন্ডাক্টর সবুজ ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখনো যাত্রীদের কাছ থেকে আগের ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। নতুন ভাড়ার চার্ট এখনো হাতে এসে পৌঁছায়নি। এজন্য নতুন ভাড়া নেওয়া যাচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে বাসে তেল নিতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে প্রতিদিন ট্রিপের সংখ্যা কমেছে। ফলে রাস্তায় বাস নামানোও কমে গেছে।
রাইদা বাসের কন্ডাক্টর রাশেদ বলেন, আমরা এখনো আগের ভাড়াই নিচ্ছি। নতুন ভাড়ার চার্ট এখনো পাইনি। নতুন ভাড়ার চার্ট ছাড়া যাত্রীদের কাছে ভাড়া চাইলে তর্ক হচ্ছে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার বাসা ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারে। সেখান থেকে প্রতিদিন মেরুল বাড্ডা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে যাতায়াত করি। আমাদের কাছ থেকে এখনো স্টুডেন্ট ভাড়া ১৫ টাকাই নেওয়া হচ্ছে। নতুন ভাড়া চাওয়ার কোনো ঘটনা এখনো দেখিনি। তবে বাস কম থাকায় অনেক সময় ক্লাসে দেরি হয়ে যায়।
নতুন বাজারগামী আরেক যাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, আগে পাঁচ-দশ মিনিটে বাস পাওয়া যেত। এখন ২০-২৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ভিড় এত বেশি থাকে যে অনেক সময় বাসে ওঠাই যায় না। এতে প্রতিদিনের যাতায়াতে ভোগান্তি বেড়েছে।
এদিকে আজ সকালে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়া-কমার সঙ্গে সমন্বয় করে দেশে ভাড়াও আনুপাতিক হারে সমন্বয় করা হবে। এ জন্য বারবার বৈঠকের প্রয়োজন হবে না। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) প্রজ্ঞাপন জারি করলেই ভাড়া সমন্বয় কার্যকর হবে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, সরকার দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও দাম সমন্বয় করেনি। তবে ভর্তুকির চাপ বৃদ্ধি ও জ্বালানি পাচারের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত সীমিত আকারে দাম বাড়ানো হয়েছে। রাষ্ট্রের কার্যক্রম সচল রাখা এবং জনস্বার্থ রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এমএইচএন/এনটি
