জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে তিনি এই আহ্বান জানান।
আমানউল্লাহ আমান জামায়াতের উদ্দেশে স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই আপনাদের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন এবং ২০০১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আপনাদের গাড়িতে লাল-সবুজের পতাকা তুলে দিয়েছিলেন। এই ইতিহাসের কথা স্মরণ রেখে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারকে সহযোগিতা করা উচিত।
আমানউল্লাহ আমান বিগত ১৭ বছরের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এবং ওয়ান-ইলেভেনের সময়কার দুঃসহ স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় তারেক রহমানকে রিমান্ডে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছিল, সুস্থ মানুষটিকে স্ট্রেচারে করে ফিরে আসতে হয়েছে। তার কোমর ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, চোখ বেঁধে ওপর থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। সেই অবস্থা থেকে বিদেশে চিকিৎসাধীন থেকেও তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার দেওয়া ডাক অনুযায়ী আমরা ভোটচোরদের সংসদ ও গণভবন থেকে বের করতে রাজপথে সংগ্রাম করেছি। এই লড়াইয়ে ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম ও সুমনের মতো অসংখ্য নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন যাদের সন্ধান আজ অবধি মেলেনি। জিয়া পরিবার ও বিএনপিই এই দীর্ঘ সময়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বর্তমান কর্মতৎপরতার প্রশংসা করে আমান বলেন, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন ও কৃষকদের ঋণ মওকুফসহ নানাবিধ উন্নয়নমূলক কাজ করছেন।
তিনি জামায়াতের উদ্দেশে বলেন, ইতিহাসের বাঁকে একদিকে মীর মদন ও মোহন লাল ছিলেন, অন্যদিকে মীর জাফরও ছিলেন। তাই দ্বিমুখী নীতি পরিহার করে সত্যের পক্ষে থাকতে হবে। এই সরকার জনগণের নিরঙ্কুশ দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকার। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী যেমন আমাদের সুশৃঙ্খলভাবে বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেন, তেমনি বিরোধী দলের নেতারও উচিত তার অনুসারীদের গঠনমূলক আচরণের নির্দেশ দেওয়া। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসা এই সরকারকে দেশ গঠনে বাধা না দিয়ে বরং সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া সবার নৈতিক দায়িত্ব।
এসআর/এমএসএ
