মহামান্য রাষ্ট্রপতির পদের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই তিনি সেই চেয়ারকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন, তবে ব্যক্তিগতভাবে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে ধন্যবাদ জানাতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকার দলীয় হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান। নিজ জেলার শহীদদের মায়েদের দেওয়া এক প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি তার এই অবস্থানের কথা জানান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে হুইপ নিজান এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, গত ৫ আগস্টের পর গণভবন ও সংসদ ভবনে যে জনরোষ দেখা গিয়েছিল, তা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড ছিল না। সংসদ ভবনের কক্ষ ভাঙচুর কিংবা গণভবনের ইট পর্যন্ত খুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ছিল বাংলাদেশের সাধারণ রিকশাচালক, শ্রমিক ও আপামর জনতার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। কোনো রাজনৈতিক দল বা শহীদের মায়েরা এসব করেনি, বরং ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের তীব্র ঘৃণা থেকেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সে সময় সংসদ ভবনে কোটি কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নবম জাতীয় সংসদের পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি তৎকালীন সরকারের আচরণের কঠোর সমালোচনা করেন হুইপ নিজান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা ‘টোকেন’ দিয়ে যুব মহিলা লীগের নেত্রীদের শিখিয়ে দিতেন– কীভাবে খালেদা জিয়াকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ করা যায়। এমনকি দাড়ি-কমা পর্যন্ত শিখিয়ে দেওয়া হতো, যাতে বিরোধীদলীয় নেত্রীকে সর্বোচ্চ অপমান করা যায়।
এসআর/বিআরইউ
