গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, বেহেশতের টিকিটের এখতিয়ার একমাত্র রাব্বুল আলামীনের কাছে; অথচ উনারা সেই বেহেশতের টিকিট বিক্রি করেছেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমেদ আযম খান বলেন, আমি বিরোধীদলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। যেদিন ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বিল’ পাস হলো, সেদিন ওই বিলে রাজাকার, আল-বদর, আল-শামসসহ সবকিছুর উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও তিনি সেসব নিয়ে নেতিবাচক কিছু না বলে মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং গণতন্ত্রের আজন্ম নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য রেখেছেন।
বিরোধীদলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আরও বলেন, আজকে নতুন করে আন্দোলনের যে আওয়াজ শুনছি—আসলে এই সংসদ ১৮ বছরের আন্দোলনের ফসল। এই সংসদ জুলাই আন্দোলনের ফসল; বিএনপির ৬০ লাখ নেতাকর্মীর নির্যাতনের ফসল। বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গুম-খুন করা হয়েছে, সেই ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই সংসদকে আমরা একটি ব্যতিক্রমী সংসদ বলি। এই সংসদের মধ্য দিয়েই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।
বিরোধী দলের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আমরা আর বিরোধী দলকে ওই পুরনো রূপে দেখতে চাই না যে, ‘জ্বালো জ্বালো আগুন জ্বালো, গণতন্ত্রের ওপর আগুন জ্বালো’। আমরা এই সংসদের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা কায়েম করতে চাই। আজকে বিরোধী দলের একজন নেতা বললেন যে তারা গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার জন্য লড়াই করছেন। তবে আমি বলব, আপনাদের দল জামায়াতে ইসলামী যদি গণতন্ত্রের জন্যই লড়াই করে, তবে আপনাদের দলীয় গঠনতন্ত্রে কেন গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ফিরিয়ে আনেন না?
জামায়াতের এক নেতার বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, আজকে দেখলাম একজন মাননীয় সংসদ সদস্য বললেন, ‘আমরা তো বেহেশতের টিকিট চাই, আপনারা কি তাহলে দোজখের টিকিট চান?’ নাউজুবিল্লাহ মিন জালিক। কোনো মুসলমান দোজখের টিকিট চাইতে পারে না। আবার কোনো মুসলমানের বেহেশতের টিকিট চাওয়ার বা দেওয়ার মালিক হওয়ারও সুযোগ নেই। এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির সময় রাব্বুল আলামীন যাকে সবচেয়ে বেশি সম্মান দিয়েছেন, তিনি হলেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। তাকেও বেহেশতের টিকিটের এখতিয়ার দেওয়া হয়নি। এই এখতিয়ার একমাত্র রাব্বুল আলামীনের কাছে। আর উনারা সেই বেহেশতের টিকিট বিক্রি করেছেন।
এমএসআই/এমএসএ
