দেশের শ্রম আদালত ও শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে মামলাজট ক্রমেই বাড়ছে। নিষ্পত্তির গতি কম থাকায় বর্তমানে ২৭ হাজারের বেশি মামলা ঝুলে আছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত সব শ্রম আদালত ও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলা আছে ২৭ হাজার ৪০৭টি। অথচ ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ২২ হাজার ৭৩৭টি এবং ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত ছিল ২১ হাজার ৬১টি। অর্থাৎ প্রতিবছরই মামলাজটের পরিমাণ বেড়েই চলেছে।
সম্প্রতি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সমন্বয় সভায়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, মামলাজট কমাতে বিচারিক কার্যক্রমের গতি বাড়াতে হবে এবং নিয়মিতভাবে মামলা নিষ্পত্তির হালনাগাদ তথ্য ছক আকারে উপস্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি শ্রম আদালত ও শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নিয়ে সভা আয়োজনের কথাও বলা হয়েছে।
জানা গেছে, চাকরিচ্যুতি, পাওনা, ক্ষতিপূরণ না পাওয়াসহ নানাভাবে বঞ্চিত ভুক্তভোগীরা শ্রম আইন প্রতিকার চেয়ে শ্রম আদালতে মামলা করতে পারেন।
বর্তমান শ্রম আইন অনুযায়ী, কোনো মামলা দায়েরের ৬০ দিনের মধ্যে রায় দেওয়ার বিধান রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে রায় দেওয়া সম্ভব না হলে উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে সর্বোচ্চ আরও ৯০ দিন সময় বাড়ানো যেতে পারে। তবে বাস্তবে এই সময়সীমা অনেক ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে দেশে শ্রম আদালতের সংখ্যা মাত্র ১৩টি। আর সারা দেশের শ্রমিকদের জন্য শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল মাত্র একটি। বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের তুলনায় এই সংখ্যা একেবারেই অপ্রতুল।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরশেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘শ্রম আদালত তো বাংলাদেশের একটি আদালত। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, লোয়ার কোর্ট, ট্রাইবুনাল– কোন আদালতে মামলা বেশি নেই? ওখানে তো বেশি থাকবেই। লোক সংখ্যার তুলনায় বিচারকের সংখ্যা কম, আদালতের সংখ্যা কম হলে যেটা হয়, সেটাই হচ্ছে। এতে ব্যতিক্রম কিছু হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এত লেবার বাংলাদেশে, তার জন্য কয়টি লেবার কোর্ট আছে? কয়জন বিচারক আছে? এগুলো তো সরকারকে বিবেচনা করতে হবে। পরিকল্পনা করে যদি সরকার ব্যবস্থা নেয়, তখন না হয় এটা কমতে পারে। এছাড়া তো কমার কোনো সুযোগ নেই। মামলার জট বাড়তেই থাকবে।’
‘কারণ নিষ্পত্তির যে প্রক্রিয়া, সে প্রক্রিয়াটা যত ধীরগতিতে থাকবে তত বাড়বে। বিচারকের সংখ্যা কম থাকলে ধীরগতি থাকবেই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (সমন্বয় ও আদালত অধিশাখা) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিচার বিভাগ এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন। এখানে আমাদের হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ নেই বা বিচার কার্যক্রমে তাদের কিছু বলার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, তবে মামলা জট কমানোর জন্য নতুন একটি আদালত অর্থাৎ ময়মনসিংহ শ্রম আদালত প্রতিষ্ঠা হয়েছে। সেটার কার্যক্রম দ্রুত চালু হবে। এটা চালু হলে কিছু মামলা ওই আদালতে চলে যাবে এবং জটও কিছুটা কমে যাবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন নতুন আদালত তৈরি করা হচ্ছে। আদালত তৈরি হলে জট কমে যাবে। তবে বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কোনো হস্তক্ষেপ নেই, কারণ বিচারকরা সম্পূর্ণ স্বাধীন।
এসএইচআর/বিআরইউ
