বিজ্ঞাপন

দুদকের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা ঠেকাতে ডিসিদের হটলাইন ব্যবহারের নির্দেশ

দুদকের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা ঠেকাতে ডিসিদের হটলাইন ব্যবহারের নির্দেশ

দুর্নীতি প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়াতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পাশাপাশি দুদকের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার ঘটনায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে হটলাইন ১০৬-এ দ্রুত জানাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের একটি অধিবেশন শেষে দুদক সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আজকে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের আমাদের ছিল মোটামুটি সর্বশেষ অধিবেশন। এখানে জেলা প্রশাসকদের দুদকের বর্তমান কাঠামোতে আমরা যে কাজগুলো করছি, সে সম্পর্কে একটু ধারণা দেওয়া হয়েছে। মূলত দুদকের প্রতিরোধমূলক যে কাজগুলো আছে, সেখানে জেলা প্রশাসকদের যে ভূমিকা আছে, বিশেষত জনসচেতনতা সৃষ্টি—দুর্নীতির বিরুদ্ধে, সেখানে জেলা প্রশাসকদের একটা বড় ভূমিকা এবং সহযোগিতামূলক কাজ ভূমিকা আমরা আশা করছি।

‌‘যেমন মাঠ পর্যায়ে আমাদের যে গণশুনানিগুলো হয়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণের যে সচেতনতা সৃষ্টি; আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে জনসচেতনতা সৃষ্টি, যেমন সেখানে আমাদের কিছু কাজ আছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমাদের ‘সততা স্টোর’ আছে। এই স্টোরগুলো অনেক ক্ষেত্রেই খুব ভালোভাবে হয়ত কাজ করছে না। তারা যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন, সেখানে এগুলো ভালোভাবে চলছে কি না, সে জিনিসগুলো দেখা। যদি ওখানে কোথাও সহযোগিতা দরকার আছে মনে করেন, সেগুলো আমাদের বললে আমরা সহযোগিতা করব।’

দুদক সচিব বলেন, সম্প্রতি মাঠ পর্যায়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার অনেক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে; বিশেষ করে আমাদের কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়েও ব্যাপকভাবে প্রতারণা করা হচ্ছে। এই বিষয়ে আমরা সবাইকে সতর্ক করেছি। এমনকি আমাদের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালায়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে যেন দুদকের হটলাইন নম্বর ‘১০৬’-এ জানানো হয়। এছাড়া আমাদের জেলা কার্যালয় বা সরাসরি আমাকেও বিষয়টি অবহিত করা যেতে পারে। আমরা এ ধরনের প্রতারকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেব। পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও বিষয়টি অবহিত করার জন্য আমরা পরামর্শ দিচ্ছি এবং এ লক্ষ্যে জনসচেতনতামূলক লিফলেটও বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এছাড়াও বিগত সময়গুলোতে আমরা যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রতিকারমূলক যে ব্যবস্থাগুলো আছে দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে, আমাদের যে ব্যবস্থাগুলো আছে মামলা, গ্রেপ্তার এই পরিসংখ্যানগুলোও তুলে ধরেছি। আমরা বিভিন্ন আটক, যে সম্পদ জব্দ বিজ্ঞ আদালতের সাহায্যে, এই বিষয়গুলো, এই পরিসংখ্যানগুলোও তাদের সামনে আমরা উপস্থাপন করেছি। আশা করছি যে মাঠ পর্যায়ে তাদের থেকে আমরা এর মধ্যেও যথেষ্ট সহযোগিতা পাচ্ছি, এই সহযোগিতা যেন অব্যাহত থাকে—এই আহ্বানটা জানিয়েছি।

আপনাদের তো চেয়ারম্যান নেই, কমিশনাররাও নেই। তো আপনাদের কাজ আসলে কীভাবে চলছে, এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, কমিশনের নিয়মিত কিছু প্রশাসনিক ও রুটিন কাজ থাকেই। কমিশন না থাকলেও আগে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া এবং এই প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করতে নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়। আমাদের অনুসন্ধান ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্ব-স্ব দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। দুর্নীতি দমনে নতুন যেসব অভিযোগ জমা পড়ছে, সেগুলো আমাদের যাচাই-বাছাই কমিটি পর্যালোচনা করে রাখছে। কমিশন গঠিত হওয়ার পর সেগুলো বিধি মোতাবেক অনুসন্ধান বা তদন্তের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

এসএইচআর/এমএন