বিজ্ঞাপন

সাগর-নদীতে নৌবাহিনীর অভিযান, জব্দ ৬৭৩ কোটি টাকার নিষিদ্ধ জাল

সাগর-নদীতে নৌবাহিনীর অভিযান, জব্দ ৬৭৩ কোটি টাকার নিষিদ্ধ জাল

দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, জাটকা নিধন প্রতিরোধ এবং বঙ্গোপসাগরে নিষিদ্ধ সময়ে মাছ আহরণ ঠেকাতে অভিযান চালাচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। চলমান বিভিন্ন অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৭৩ কোটি টাকার বেশি মূল্যের অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে। একইসঙ্গে জব্দ করা হয়েছে হাজার হাজার নিষিদ্ধ জাল, বোট এবং বিপুল পরিমাণ জাটকা।

রোববার (১০ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আইএসপিআর।

আইএসপিআর জানায়, দেশের সমুদ্রসীমা, সামুদ্রিক সম্পদ এবং জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, দেশের সমুদ্রসীমায় অবস্থানরত জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা বিধানেও বাংলাদেশ নৌবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একইসঙ্গে দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতকরণ এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিয়মিতভাবে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে। এ ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রম-২০২৬’ এবং ১৫ এপ্রিল থেকে ‘বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিন সব প্রকার মৎস্য আহরণ বন্ধ কার্যক্রম’ বাস্তবায়নে নিয়োজিত রয়েছে।

‘জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রম-২০২৬’-এর আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চাঁদপুর, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও বরগুনাসহ দেশের মোট ৯টি জেলায় সমন্বিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানের অংশ হিসেবে বরিশাল এলাকায় বানৌজা তিতাস টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।

এছাড়াও অন্যান্য জেলায় নৌবাহিনীর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক জাহাজ ও ঘাঁটি মোতায়েন রয়েছে। অভিযান চলাকালীন অবৈধভাবে জাটকা আহরণ প্রতিরোধ এবং ৪৫ সেন্টিমিটার বা তারচেয়ে কম ব্যাস বা ফাঁস বিশিষ্ট নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, মশারি জাল, চায়না দুয়ারি জাল, সুতা জাল ও বাঁধা জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হচ্ছে।

আইএসপিআর আরও জানায়, আটক করা অবৈধ জাল স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী ধ্বংস করা হচ্ছে। একইসঙ্গে নদী ও উপকূলীয় এলাকার জেলেদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ ও সচেতন করা হচ্ছে। উদ্ধার করা ২৩ সেন্টিমিটারের ছোট আকৃতির ইলিশ বা জাটকা মৎস্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ পর্যন্ত অভিযানে প্রায় ৫১৪ কোটি ৬৮ লাখ ৯৩ হাজার ২১০ টাকা মূল্যের ৩ কোটি ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৭০৫ মিটার অবৈধ জাল আটক করা হয়।

এছাড়াও, বেহুন্দি, টং জাল, চায়না রিংসহ সর্বমোট ৮৬১টি বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল এবং ৩৭ কেজি জাটকাসহ ১টি বোট জব্দ করা হয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এ অভিযান আগামী ১৫ মে পর্যন্ত চলমান থাকবে।

এদিকে, দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতে গত ১৫ এপ্রিল থেকে বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিন সব ধরনের মৎস্য আহরণ বন্ধ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ৩টি জাহাজ সমুদ্রে মোতায়েন রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মৎস্য নৌযান কর্তৃক যেকোনো প্রজাতির মাছ আহরণ বন্ধে নৌবাহিনীর জাহাজ ও ক্রাফট নিয়মিত টহল পরিচালনার পাশাপাশি, প্রয়োজন সাপেক্ষে মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটের মাধ্যমে নিয়মিত এয়ার সার্ভেইল্যান্স পরিচালনা করছে। যাতে দেশি বা বিদেশি কোনো নৌযান নিষিদ্ধ সময়ে মাছ আহরণ করতে না পারে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী ১৪ এপ্রিলের মধ্যেই সমুদ্রে মাছ ধরায় নিয়োজিত সব নৌযান, ট্রলার ও ফিশিং বোটের উপকূলে ফিরে আসা নিশ্চিত করেছে। এ বিষয়ে জেলেদেরও সচেতন করা হয়েছে এবং তারা নৌবাহিনীকে সহযোগিতা করছে বলেও জানানো হয়।

তারপরও নিষিদ্ধ সময়ে কোনো নৌযান যাতে সমুদ্রে মাছ ধরতে না পারে, সে লক্ষ্যে নৌবাহিনীর জাহাজসমূহ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গভীর সমুদ্রে দেশি-বিদেশি অবৈধ মৎস্য শিকারিদের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে নৌবাহিনীর জাহাজ, ক্রাফট, বোট এবং অত্যাধুনিক মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এ অভিযানে আজ পর্যন্ত আনুমানিক ২৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ২৩ হাজার ৫০০ মিটার অবৈধ জাল এবং বেহুন্দি, টং জাল, চায়না রিংসহ সর্বমোট ৪১ টি বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল আটক করা হয়। সরকার ঘোষিত ‘৫৮ দিন সব প্রকার মৎস্য আহরণ বন্ধ কার্যক্রম’ আগামী ১১ জুন পর্যন্ত চলমান থাকবে।

দেশের মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী গত ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত দেশের ১৬টি উপকূলীয় জেলায় ‘বিশেষ কম্বিং অপারেশন-২০২৬’ পরিচালনা করে। এ অভিযানে প্রায় ১৫৮ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ২ কোটি ২৬ লাখ ৫৪ হাজার ১৬০ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। পাশাপাশি ২৩৫৭টি নিষিদ্ধ জাল, ৫টি বোট এবং ৯০৩ কেজি জাটকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা বোট স্থানীয় থানায় হস্তান্তর, জব্দ করা অবৈধ জাল স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে ধ্বংস এবং জাটকা স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। নৌবাহিনীর এ ধরনের কার্যক্রম জাতীয় সম্পদ ইলিশ-সহ দেশের সামগ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানায় আইএসপিআর।

এমএসি/জেআই

বিজ্ঞাপন