বিজ্ঞাপন

ইয়াবা কারবারের বিরোধে কিশোর খুন, সাড়ে তিন বছর পর রহস্য উদঘাটন

ইয়াবা কারবারের বিরোধে কিশোর খুন, সাড়ে তিন বছর পর রহস্য উদঘাটন

২০২২ সালের জুলাইয়ে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় কিশোর মো. বেলাল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ইয়াবা ব্যবসার লভ্যাংশ নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। হত্যার পর লাশ গুম করতে মাথা বিচ্ছিন্ন করে পাহাড়ে পুঁতে রাখা হয়েছিল। 

এ ঘটনায় মো. পারভেজ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হারুনের আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সিআইডি জানায়, ২০২২ সালের ১৭ জুলাই সাতকানিয়া উপজেলার উচুর বিল পুরানগড় এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত বেলাল স্থানীয় অটোরিকশাচালক পারভেজের গাড়িতে নিয়মিত চলাফেরা করতেন। একপর্যায়ে পারভেজের মাধ্যমে তিনি ইয়াবা পরিবহনের কাজে জড়িয়ে পড়েন। এ কাজে পারভেজকে দ্বিগুণ ভাড়াও দেওয়া হতো। পরে ইয়াবা ব্যবসার লাভের অর্ধেক দাবি করেন পারভেজ। এতে বেলাল রাজি না হওয়ায় তার সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। এর জেরে পারভেজ কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে বেলালকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. সালাহউদ্দিন বলেন, ‘গ্রেপ্তার পারভেজ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন। ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়ির চালক হিসেবে সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। পরে তিনি হত্যার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য স্বীকার করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইয়াবা ব্যবসার লাভের অংশ না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে বেলালকে হত্যা করা হয়। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মোশারফ হোছাইন বলেন, ‘নিহত বেলালের চলাফেরা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে পারভেজের নাম সামনে আসে। এরপর গত বৃহস্পতিবার তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।’

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জবানবন্দিতে পারভেজ বলেন, ২০২২ সালের ১৭ জুলাই রাতে বেলালকে ডেকে স্থানীয় একটি কলেজ মাঠে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে জিম্মি করে ইয়াবা ও টাকা দাবি করা হয়। পরে পাশের একটি সেতুর কাছে নিয়ে কয়েকজন মিলে তার হাত-পা চেপে ধরে। এ সময় বেলালের কাছ থেকে টাকার বান্ডিলও নেওয়া হয়। একপর্যায়ে কোদাল দিয়ে বেলালের গলা ও পায়ে আঘাত করা হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে মাথা বিচ্ছিন্ন করে চুল কেটে ফেলা হয়। এরপর পাহাড়ে গর্ত খুঁড়ে লাশ ও মাথা মাটিচাপা দেওয়া হয়। প্রায় ২০ থেকে ২১ দিন পর শিয়াল মাটি খুঁড়ে লাশের অংশ বাইরে বের করে আনে। পরে ২০২২ সালের ৪ আগস্ট পরিবারের সদস্যরা পোশাক দেখে বেলালকে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্বজন মুন্সী মিয়া মামলা করেন। দীর্ঘদিন তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর আদালত মামলাটির তদন্তভার সিআইডিকে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এসএএস/এনএফ