বিজ্ঞাপন

শাহ আলী মাজারে হামলা : দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান টিআইবির

শাহ আলী মাজারে হামলা : দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান টিআইবির

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শাহ আলীর মাজারে আক্রমণের ঘটনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ও অভিষ্টের পরিপন্থি, এই অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও সহাবস্থান বিষয়ে জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোর নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বানও জানিয়েছে তারা।

শনিবার (১৬ মে) এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, শাহ আলীর মাজারে হামলা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ও অভিষ্টের পরিপন্থি। তিনি এ ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে দেশের উদারনৈতিক লোকজ ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যময় চর্চাকে ধ্বংসের অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘রক্তস্নাত জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদ পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে লোকজ ঐতিহ্যবিরোধী শক্তির উত্থান এবং দেশব্যাপী বহুমত, বহুধর্মী ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর সহিংস কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, বহুসংস্কৃতি ও বহুধর্মী বাংলাদেশের গৌরবময় ঐতিহ্য রক্ষা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের। শাহ আলীর মাজারে হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে অতীতে বাউল, সাধক ও মাজারে হামলার ঘটনাগুলোর বিচার না হওয়ায় এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে টিআইবি আরও বলছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জুলাই আন্দোলনের চেতনার পাশাপাশি দেশের সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক বৈচিত্র্যের সহাবস্থান বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর সুস্পষ্ট অবস্থান জানানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে এসব দলের যেসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হামলায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

টিআইবি মনে করে, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সব জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও বিশ্বাসের মানুষের নিজস্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি চর্চার অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের পাশাপাশি সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী ও সংসদের বাইরের সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের দায়িত্ব।

আরএম/বিআরইউ

বিজ্ঞাপন