চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন আবারও স্থগিত করা হয়েছে। এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো পেছালো চট্টগ্রাম চেম্বারের ভোট আয়োজন। আগামী ২৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও হাইকোর্টের নির্দেশে নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও আবদুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত রুল জারি এবং নির্বাচনী তফসিলের ওপর অ্যাড-ইন্টারিম স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।
আদালত সূত্র জানায়, মেসার্স মসমার্কের স্বত্বাধিকারী এস এম নুরুল হক এবং মেসার্স ডায়মন্ড ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আজিজুল হক যৌথভাবে রিট আবেদন করেন। রিটে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডিটিওর মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রশাসক, নির্বাচন বোর্ড চেয়ারম্যান ও আপিল বোর্ড চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়।
রিটে বলা হয়, এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনালের ২০২৫ সালের সালিশি আদেশ এবং আপিল বিভাগের সাম্প্রতিক নির্দেশনা কার্যকর না করেই নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। পরে সেই তফসিল ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।
রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আশফাকুর রহমান। তিনি বলেন, আদালতের আদেশের ফলে ২৩ মে নির্বাচন আয়োজনের আর কোনো আইনি সুযোগ নেই।
রিটকারী এস এম নুরুল হক বলেন, ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চান। কিন্তু পুরোনো কাঠামো বহাল রেখে স্বল্প সময়ের নোটিশে ভোট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করেনি।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ। এরপর সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি গঠন হলেও আর ভোট হয়নি। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কয়েক দফায় প্রশাসক বদল ও নতুন তফসিল ঘোষণা হলেও প্রতিবারই আইনি জটিলতায় নির্বাচন পিছিয়ে যায়।
এবারের নির্বাচনে সাবেক এফবিসিসিআই পরিচালক আমিরুল হকের নেতৃত্বাধীন ‘ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম’ এবং সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বাধীন ‘সমমনা পরিষদ’ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে।
আরএমএন/এসএম
