বিজ্ঞাপন

লাখের নিচে গরু নেই

লাখের নিচে গরু নেই

রাজধানীর হাটগুলো সাধারণত যেমন হয় এটা তেমন নয়। চারপাশে বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ, নেই গাড়ির কোলাহল। দেখে বোঝার উপায় নেই এটা রাজধানীর কোনো কোরবানির হাট। 

এ চিত্র রাজধানীর আফতাবনগর সংলগ্ন স্বদেশ সানভ্যালি গরুর হাটের। আজ (শনিবার) এ হাট ঘুরে দেখা যায়— হাট এখনও জমে ওঠেনি। অনেক ব্যাপারি এসে জায়গা দখল করেছেন কেবল, তবে তাদের গরু হাটে এসে পৌঁছায়নি। তবে এর মধ্যে হাটে যা গরু উঠেছে তার মধ্যে লাখ টাকার নিচে কোনো গরু নেই।

হাট ঘুরে দেখা যায়, দুই থেকে আড়াই মণ ওজনের গরু ১ লাখ ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা, আড়াই থেকে চার মণের গরুর দাম দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা, ৪ থেকে ৬ মণের গরুর দাম ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা আর ৬ মণের বেশি ওজনের গরু ৩ লাখ টাকার বেশি দাম চাচ্ছেন ব্যাপারীরা।

তাদের দাবি, গত বছর যে গরু ১ লাখ টাকায় গৃহস্থের কাছ থেকে ক্রয় করতে পেরেছেন, সেই গরু এবার ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হয়েছে। আর ২ লাখ টাকার গরু ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হয়েছে। এর কারণ হিসেবে গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি, ইন্ডিয়া থেকে গরু না আসা, খামারিদের গরু উৎপাদন কমে যাওয়াকে দায়ী করছেন তারা।

হাটে চারটি গরু নিয়ে মেহেরপুর থেকে এসেছেন ৭৫ বছর বয়সী আব্দুর রহমান। এর মধ্যে তিনটি নিজের ও একটি ছোট ভাইয়ের। আব্দুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রতি বছরই আমি ঢাকার বিভিন্ন হাটে গরু নিয়ে আসি। এবার আশা করছি জোড়া ৪ লাখ করে বিক্রি করতে পারবো। আগের চেয়ে গরু পালন করতে অনেক বেশি খরচ হচ্ছে। এর কম বিক্রি করলে লস হবে।

চাঁদপুর থেকে ৩৯টি গরু নিয়ে হাটে আসা আখতার হোসেন জানান, গৃহস্থের কাছ থেকে গরু প্রতি গত বছরের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হয়েছে। এরপর গরু নিয়ে আসতে খরচও বেশি। গত বছর ট্রলার ভাড়া লেগেছিল ২৬ হাজার, এবার লাগছে ৪২ হাজার। গতকাল একটা গরু বিক্রি করেছি ১ লাখ ৬০ হাজারে। এখনো ক্রেতা তেমন আসেননি। আশা করি আগামীকাল থেকে কিছু গরু বিক্রি হবে।

কুষ্টিয়া থেকে ১৭টি গরু নিয়ে আসা আলমগীর হোসেন বলেন, এবার গরুর সংখ্যা কম। এখনও বেচাবিক্রি শুরু হয়নি। আশা করি কাল থেকে পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হবে।

হাটের ইজারাদার তহিরুল ইসলাম তুহিন বলেন, আমরা এ হাটে ১০ হাজার গরু কেনাবেচার ব্যবস্থা করেছি। এখন পর্যন্ত ৫০ শতাংশ গরু এসেছে। বাকি গরুও রাতের মধ্যে চলে আসবে বলে আমরা মনে করি। আমাদের আশপাশে যেহেতু কোনো হাট নেই, আশা করি আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী গরু বিক্রি হবে।

এমএল/এনএফ