বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট-ফুটবলকে কেন্দ্র করে দেশে অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট-ফুটবলকে কেন্দ্র করে দেশে অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক

বাংলাদেশে অনলাইন বেটিং (জুয়া) ও অবৈধ অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. আলা উদ্দিন (৪২), শাহাদাৎ হোসেন (৩২), মো. সাহাব উদ্দিন (৪৮)। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে অনলাইন বেটিং ও অবৈধ অর্থপাচারের মতো অপরাধকর্মে ব্যবহৃত ৫টি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড ও চেকবই উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২৩ মে) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। শুক্রবার (২২ মে) চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

জসিম উদ্দিন খান বলেন, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের সাইবার মনিটরিং সেল নিয়মিত অনলাইন নজরদারির সময় কিছু চক্র বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট বাংলাদেশে অবৈধভাবে পরিচালনা করার তথ্য পায়। এসব সাইটে জুয়ারিরা মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট, নগদ), ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে টাকা লেনদেন করছিল। গত বছরের ১১ নভেম্বর সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন মডেল (ডিএমপি) থানায় মামলা করে।

তিনি বলেন, দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নামে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার ওয়েবসাইট পরিচালনা করে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিতভাবে এসব জুয়ার সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো। তদন্তে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে অনলাইন বেটিংয়ের আয়োজন করা হচ্ছিল।

তদন্তের তথ্য জানিয়ে তিনি আরও বলেন, জুয়ার সাইটগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য ব্যবহারকারীদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ জমা দিতে হতো। জমা করা অর্থের বিপরীতে ব্যবহারকারীদের বেটিং অ্যাকাউন্টে ই-মানি বা বট মানি যুক্ত করা হতো, যা পরে অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত হতো। চক্রটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার ও পরিবর্তন করত এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে এসব নম্বর সংগ্রহ করত। পরে টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সেগুলো জুয়ার সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে পাঠানো হতো। অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি’র মাধ্যমে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হচ্ছিল।

জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে জসীম উদ্দিন বলেন, গ্রেপ্তাররা অনলাইন বেটিং ও অবৈধ অর্থ লেনদেন চক্রের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের তথ্য উদঘাটনের স্বার্থে গ্রেপ্তারদের পুলিশ রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান। 

এমএসি/জেডএস

বিজ্ঞাপন