চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, নগরকে ক্লিন সিটি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে নগরীর কাজীর দেউরীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে চসিকের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে চসিকের তিন হাজার ২৭০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে ঈদ উপহার দেওয়া হয়। এর আগে, গত শুক্রবার (২৩ মে) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের হাতে এক কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।
সিটি মেয়র বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দিন-রাত পরিশ্রম করে নগরবাসীর জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করেন। তাদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেওয়া এই ঈদ উপহার একটি মানবিক উদ্যোগ, যা কর্মীদের মনোবল আরও বাড়াবে।
তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য আবাসন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় সাতটি ভবনে এক হাজার ৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন হবে প্রায় ছয়শ বর্গফুট। পাশাপাশি বর্ষাকালে কর্মীরা যাতে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন, সে জন্য রেইনকোট দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করায় নগরের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা অনেকটাই উন্নত হয়েছে। তবে এখনো কিছু ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে ময়লা পরিবহনের সময় সড়কে বর্জ্য পড়ে যাওয়া এবং দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।
চট্টগ্রাম নগরবাসীর উদ্দেশ্যে মেয়র বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে ‘চসিক’ বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বর্জ্য থেকে সম্পদ উৎপাদনের লক্ষ্যে রিসাইক্লিং, বায়োগ্যাস, গ্রিন ডিজেল ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উন্নত দেশগুলো বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করছে, অথচ দেশে এখনো অনেকেই অনিয়মভাবে বর্জ্য ফেলছেন, যা জলাবদ্ধতা ও পরিবেশদূষণের অন্যতম কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন আরও জানান, আগে বাসা থেকে সরাসরি বর্জ্য সংগ্রহের একটি উদ্যোগ নেওয়া হলেও নাগরিকদের আপত্তির কারণে তা বন্ধ করা হয়। বর্তমানে ‘চসিক’ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে বাসা থেকে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে করে মেয়র বলেন, এই শহর আমাদের সবার। আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করলে চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করা সম্ভব।
এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, সিডিএর বোর্ড সদস্য জাহিদুল করিম কচি, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি ও উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মাসহ চসিকের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী।
জেআই/জেডএস
