গাজীপুরে আনসার-ভিডিপির ৪৬তম সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর দরবারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তিন আনসার সদস্য গ্রেপ্তারের খবরকে বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা নিয়মিত আনসার সদস্য নন, বরং স্বেচ্ছাসেবী গ্রাম প্রতিরক্ষা দলের (ভিডিপি) সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর মূল দরবার অনুষ্ঠানে তাদের কোনো প্রবেশাধিকার ছিল না। মূলত বাহিনীবিরোধী কর্মকাণ্ড ও ব্যারাকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের উসকানির অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ-পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো আশিকউজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
তিনি জানান, প্রতিবেদনে যাদের আনসার সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা মূলত স্বেচ্ছাসেবী গ্রাম প্রতিরক্ষা দলের (ভিডিপি) সদস্য। তারা প্রধানমন্ত্রীর দরবার কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী অনুমোদিত জনবলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।
বাহিনীর এই কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর দরবারে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কঠোর নিরাপত্তা যাচাই ও নির্ধারিত অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। শুধুমাত্র নিরাপত্তা ছাড়পত্রপ্রাপ্ত সদস্যদেরই সেখানে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তি ওই দরবারে অংশগ্রহণের জন্য অনুমোদিত ছিলেন না। এমনকি ওই দিনের অন্য কোনো অনুষ্ঠানেও তাদের প্রবেশ বা অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানকে ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সদস্য সংশ্লিষ্টদের সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় রাখা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠান শেষে ওই তিন স্বেচ্ছাসেবী সদস্যের কর্মকাণ্ড অনুসন্ধান করে সন্দেহজনক সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
আনসার-ভিডিপি কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি দরবার অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ নয়; বরং অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্যারাকে অবস্থান করে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও প্রশিক্ষণ পরিবেশ বিঘ্নিত করার ষড়যন্ত্র, উসকানি এবং বাহিনীবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পরবর্তীতে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বাহিনীটি আরও জানায়, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর দরবারে বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা যথাযথ নিয়ম ও নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করে সুশৃঙ্খলভাবে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় সদস্যদের যৌক্তিক দাবিদাওয়াও প্রচলিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে উপস্থাপন করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, দায়িত্বশীল ও রাষ্ট্রনিষ্ঠ বাহিনী হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন বা অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ব্যাহত হয় এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
এসএএ/এমএসএ
