কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশুর হাটে গরু তুলছেন গ্রামের প্রান্তিক ও মাঝারি খামারিরা। তবে ঈদের আর মাত্র চারদিন বাকি থাকলেও আশানুরূপ ক্রেতা পাচ্ছেন না তারা। বিশেষ করে গ্রামের পশুর হাটগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি একেবারেই কম বলে জানিয়েছেন খামারিরা। বড় গরুর চাহিদা নেই বললে চলে।
পেশাদার খামারিদের দাবি, স্থানীয় হাটে গরু তুললেও শহরের অধিকাংশ ক্রেতা এখন ঝুঁকছেন অ্যাগ্রো ফার্ম ও অনলাইনভিত্তিক পশু বিক্রয় প্ল্যাটফর্মের দিকে। ফলে ঐতিহ্যবাহী পশুর হাটে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে।
আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর এলাকার খামারি আনিসুর রহমান বলেন, আমি এবার একটি বড় ষাড় গরু কোরবানির জন্য মোটাতাজা করেছি। কয়েক মাস ধরে লালন-পালন করা গরু নিয়ে হাটে এলেও কাঙ্ক্ষিত দাম মিলছে না।
অন্যদিকে শহরের ক্রেতারা অনলাইন প্রচার, আকর্ষণীয় উপস্থাপন, স্বাস্থ্যসনদ ও বাসায় পৌঁছে দেওয়ার সুবিধার কারণে অ্যাগ্রো ফার্ম থেকেই বেশি পশু কিনছেন। এতে গ্রামীণ খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
সরেজমিনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, অনেক খামারি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গরু নিয়ে অপেক্ষা করলেও ক্রেতার সংখ্যা তুলনামূলক কম। আবার অনেক ক্রেতা হাটে এসে পশু দেখে দাম যাচাই করলেও শেষ পর্যন্ত অ্যাগ্রো ফার্ম থেকেই পশু কিনছেন বলে জানিয়েছেন খামারিরা।
সাম্প্রতিক সময়ে বড় বড় ও মৌসুমি অ্যাগ্রো ফার্মগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে সহজেই ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। শহরের ক্রেতারা বড় গরু কেনা, রাখা ও লালন-পালনের ঝামেলা এড়াতে অ্যাগ্রো ফার্মের দিকে ঝুঁকছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে।
এদিকে প্রান্তিক খামারিরা বলছেন, বড় গরুর চাহিদা মূলত শহরের সচ্ছল ক্রেতাদের মধ্যে বেশি। একসময় গ্রামের খামারিরা আশায় থাকতেন, শহর থেকে বড় ক্রেতারা এসে তাদের গরু কিনবেন। কিন্তু এখন বড় ক্রেতারা গ্রামে না যাওয়ায় অনেক খামারিকে কম দামে ব্যবসায়ীদের কাছে গরু বিক্রি করতে হচ্ছে। পরে সেই গরু শহরের অ্যাগ্রো ফার্মে নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে প্রান্তিক ও মাঝারি খামারিরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।
তবে অ্যাগ্রো ফার্ম সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে গরু পালন এবং আধুনিক সেবা দেওয়ার কারণেই ক্রেতাদের আস্থা বেড়েছে। অনলাইনে ছবি ও ভিডিও দেখে অনেক ক্রেতা আগেই পশু পছন্দ করে রাখছেন।
ব্যাংক কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম বলেন, কোরবানির আগে ব্যাংকের কাজের চাপ বেশি থাকে। গ্রামের হাটে গিয়ে গরু কেনার ইচ্ছা থাকলেও সময় হয়ে ওঠে না। তাই আগ্রাবাদের একটি অ্যাগ্রো ফার্ম থেকে দুই লাখ ১১ হাজার টাকায় গরু কিনেছি।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানায়, এবার চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে আট লাখ ১৮ হাজার ছয়শ ৭১টি। এর বিপরীতে স্থানীয় খামারিদের কাছে মজুত রয়েছে সাত লাখ ৮৩ হাজার একশ ৫১টি পশু।
চট্টগ্রাম জেলা ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নুরুর হুদা বলেন, গ্রামের খামারিরা অনেক কষ্ট করে গরু লালন-পালন করেন। একসময় তারা শহরের ক্রেতাদের আশায় থাকতেন। এখন বড় ক্রেতারা গ্রামে না যাওয়ায় প্রান্তিক খামারিরা আশাহত হচ্ছেন।
এমআর/জেআই/এমএসএ
