বিজ্ঞাপন

অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড

সুন্দরবনের ‘ছোট সুমন বাহিনী’র দুই সদস্য অস্ত্র-গোলাবারুদসহ আটক

সুন্দরবনের ‘ছোট সুমন বাহিনী’র দুই সদস্য অস্ত্র-গোলাবারুদসহ আটক

অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ডের আওতায় নতুন ডাকাত দল গঠনের আগে সুন্দরবনের আত্মসমর্পণ করা ‘ছোট সুমন বাহিনী’র দুই সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে কোস্ট গার্ড।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সব বনদস্যু বাহিনী নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। 

অভিযানের ধারাবাহিক সফলতা হিসেবে অষ্টম বারের মতো ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় অভিযান চালিয়ে নতুন ডাকাত দল গঠনের আগে সুন্দরবনের আত্মসমর্পণ করা 'ছোট সুমন বাহিনী'র আত্মসমর্পণে অনিচ্ছুক দুই সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করা হয়।

অভিযান আটক সম্পর্কে তিনি বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় আত্মসমর্পণে অনিচ্ছুক ওই দুইজন সদস্য ‘চাচা- ভাইরপো’ নামে একটি নতুন ডাকাত দল গঠন করে পুনরায় সুন্দরবনে সক্রিয় হওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং বর্তমানে তারা রূপসা খেয়াঘাট ও কাটাখালীর মোড় সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। 

ওই তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (২৫ মে) রাতে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা কর্তৃক একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে নাজমুল শেখ ও হানিফ শেখকে ওই দুই ডাকাত সদস্যকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির জন্য সদ্য প্রস্তুতকৃত ‘চাচা- ভাইরপো’ নাম সম্বলিত ৫০০টি কার্ড উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে আটকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল ৬টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও পুলিশের সমন্বয়ে মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের সেলা নদীর বটতলার খাল সংলগ্ন এলাকায় একটি যৌথ অভিযান চালিয়ে ৩টি একনলা বন্দুক, ১টি পাইপ গান, ১টি খেলনা পিস্তল ও ১৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। 

আটক ডাকাত নাজমুল শেখ (৩৫) ও হানিফ শেখ (৪২) বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনীর সাথে জড়িত থেকে সুন্দরবন এলাকায় ডাকাতি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।

এরপর গত ১৭ মে `ছোট সুমন বাহিনী'র আত্মসমর্পণের পরে তারা ‘চাচা- ভাইরপো’ নামে একটি নতুন ডাকাত দল গঠন করে পুনরায় সুন্দরবনে সক্রিয় হওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল। 

উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটক ডাকাতদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন আরও বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে ডাকাত ও তাদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

জেইউ/বিআরইউ