বিজ্ঞাপন

দক্ষিণাঞ্চলে লঞ্চের ঈদযাত্রায় চাপ কমেছে

দক্ষিণাঞ্চলে লঞ্চের ঈদযাত্রায় চাপ কমেছে

রাত পোহালে পবিত্র ঈদুল আজহা। ইতোমধ্যেই শেকড়ের টানে রাজধানী ছেড়েছে লাখ লাখ মানুষ। এখনো চলছে ঈদ যাত্রা।

বুধবার (২৭ মে) ঈদের আগের দিন হলেও সড়ক, রেল ও নৌ-পথে ঘরমুখো মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গত কয়েকদিন দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের ভিড় বাড়লেও গতকালের তুলনায় কমেছে। 

পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে বিগত বছরগুলোতে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের মধ্যে সড়কপথের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে, ফলে লঞ্চে যাত্রীর চাপ কমে যায়। তবে ঈদের সময় বরাবরই চাপ একটু বেশি হয়।

অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্রে জানা গেছে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সদরঘাট টার্মিনালে ১৭২টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়। টার্মিনাল থেকে দক্ষিণ অঞ্চলের ২১টি জেলার সাধারণ সময়ে যেখানে ৫০ থেকে ৫৫টি লঞ্চ চলাচল করে, সেখানে ঈদের সময় অতিরিক্ত লঞ্চ যুক্ত করা হয়েছে। ঈদকালীন ভ্রমণ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে পর্যাপ্তসংখ্যক লঞ্চ দক্ষিণাঞ্চলের উদ্দেশ্য যাত্রা করেছে।

সদরঘাটে ঘুরে দেখা গেছে, লঞ্চগুলো নির্ধারিত সময়ে ছাড়ছে, যাত্রীর সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। তবে গত দুইদিনের তুলনায় কম। সকাল থেকে সদরঘাটে বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, বরগুনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের অনেক লঞ্চ ঘাটে নোঙর করা থাকলেও অনেক বেশি ভিড় দেখা যায়নি। যাত্রীদের দুপুরের মধ্যে ঘাটে আসতে বলা হলেও দূরপাল্লার কোনো লঞ্চ নির্ধারিত সময়ের আগে ঢাকা থেকে ছেড়ে যায়নি।

এ বিষয়ে বিবিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মুহাম্মদ মোবারক হোসেন ঢাকাপোস্টকে বলেন, “সকালে যাত্রীর সমাগম বেশি ছিল। পরে আবহাওয়ার কারণে কিছুটা কমে যায়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো কোনো লঞ্চ দেরিতে ছেড়েছে। 

তিনি জানান, সকাল থেকে ৯০টির মতো লঞ্চ ছেড়েছে। আজ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আলহামদুলিল্লাহ এখন পর্যন্ত সবকিছু সুন্দরমতো হয়েছে। 

সুরভি নামের একটি লঞ্চের যাত্রী এনায়েত হোসেন বলেন, আমাকে ৬টার মধ্যে আসতে বলা হয়েছিল। আমি সঠিক সময়ে এসেছি। কিন্তু লঞ্চ ৯টার দিকে ছেড়েছে। ডেকের যাত্রীদের ভিড় অতিরিক্ত মনে হলেও কেবিনে বাড়তি চাপ মনে হয়নি। 

বিআইডব্লিউটিএ’র এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে আরও বলেন, সদরঘাট থেকে প্রতিদিন সদরঘাট থেকে ৪৩টি রুটে ৬০ থেকে ৭০টি লঞ্চ ছেড়ে যায়। ঈদ উপলক্ষ্যে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় লঞ্চের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর মূলত ঈদের সময়েই যাত্রী বেশি হয়, অন্যান্য সময়ে যাত্রীর সংখ্যা খুবই কম থাকে।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট জোরদার করা হয়েছে। নৌ-পথে চলাচলকারী যাত্রী সাধারণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা হট লাইন নম্বর-৯৯৯ এবং যাত্রী সেবা সংক্রান্ত বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর হটলাইন নম্বর-১৬১১৩ চালু রয়েছে। যাত্রা সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ করার অনুরোধ করেছে বিআইডব্লিউটিএ।

আরএম/বিআরইউ