পবিত্র ঈদ-উল-আজহার দীর্ঘ ছুটি শেষে ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে রাজধানী ঢাকা। অফিস-আদালত খোলায় সড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ, ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। তবে নগরজীবন এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। রাজধানীর আগের চেনা ব্যস্ত রূপে ফিরতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে বলে মনে করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (১ জুন) সকালে ফার্মগেট, মহাখালী ও বাড্ডা এলাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, ঈদের ছুটির সময়কার নির্জনতা অনেকটাই কেটে গেছে। প্রধান সড়কগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও গণপরিবহনের উপস্থিতি বেড়েছে। বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে অফিসগামী মানুষের আনাগোনাও দেখা গেছে। তবে স্বাভাবিক কর্মদিবসের তুলনায় যাত্রী ও পথচারীর সংখ্যা এখনও কম।
বাড্ডা রুটে চলা ভিক্টর ক্লাসিক বাসের চালকের সহকারী সোহেল বলেন, ঈদের আগে যেমন ভিড় থাকে এখনো সেই অবস্থা হয়নি। আজ অফিস খোলার কারণে কিছুটা চাপ বেড়েছে। তবে অনেক সিট খালি নিয়েই গাড়ি চালাতে হচ্ছে। মনে হয় আরও কয়েকদিন লাগবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে।
মহাখালী এলাকায় একটি বাসের চালাক রফিকুল ইসলাম বলেন, রাস্তায় গাড়ি বেড়েছে, কিন্তু যাত্রী সেই তুলনায় বাড়েনি। অনেক মানুষ এখনো গ্রামের বাড়িতে আছে। আজও বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ ঢাকায় ফিরছে। সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় থেকে যাত্রী আরও বাড়বে।
ফার্মগেটে অপেক্ষমাণ ভিআইপি ২৭ পরিবহনের সুপারভাইজার জসিম উদ্দিন বলেন, গত তিন-চার দিনের তুলনায় আজ সড়কে যানবাহনের চাপ অনেক বেশি। তবে ঢাকার আসল চেহারা এখনো দেখা যায়নি। স্কুল-কলেজসহ সব কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হলে তখন ব্যস্ততা আরও বাড়বে।

এদিকে অফিসে যোগ দিতে আসা কয়েকজন চাকরিজীবীরা জানান, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরলেও রাজধানী এখনো কিছুটা ফাঁকা লাগছে। অনেক সহকর্মী ছুটি বাড়িয়ে নিয়েছেন। ফলে কর্মস্থল ও সড়ক দুই জায়গাতেই স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মানুষের উপস্থিতি কম।
পরিবহন শ্রমিকরা জানান, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে অধিকাংশ মানুষ ঢাকায় ফিরে আসবেন। তখন রাজধানীর সড়কে যানবাহন ও মানুষের চাপ আরও বাড়বে এবং নগরজীবন আবারও তার পরিচিত ব্যস্ত ছন্দে ফিরবে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সারাদেশে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদ-উল-আজহা। ঈদকে কেন্দ্র পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে রাজধানী ছেড়েছেন লাখো মানুষ।
ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ২৬ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি নির্ধারিত ছিলো। এছাড়া ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ২৫ মে নির্বাহী আদেশে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। সব মিলিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের ছুটি পেয়েছেন। ফলে রাজধানী অনেকটাই ফাঁকা।
এমএসি/আরএফ/এমএসএ
