বিজ্ঞাপন

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়

এক বছরের বেশি ঝুলে থাকা বিভাগীয় মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ

এক বছরের বেশি ঝুলে থাকা বিভাগীয় মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে (পেন্ডিং) থাকা বিভাগীয় মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন অবস্থায় থাকা অডিট আপত্তিগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে তা নিরসনে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত ১৭ মে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মে মাসের মাসিক সমন্বয় সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া। সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সমন্বয় সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, মে মাস পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ে পাঁচটি বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে যেগুলো এক বছরের বেশি সময় ধরে নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় পড়ে আছে, সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিন মাস, ছয় মাস ও এক বছরের বেশি সময় ধরে চলমান মামলাগুলোর একটি হালনাগাদ তালিকা ছক আকারে সংসদ ও সমন্বয় শাখায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব (অডিট) জানান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে বর্তমানে তিনটি সাধারণ (নন-এসএফআই) অডিট আপত্তি রয়েছে। এছাড়া, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থাগুলোতে সাধারণ আপত্তির সংখ্যা ৬৯১টি, অগ্রিম আপত্তির সংখ্যা ৯৪৬টি এবং খসড়া (সংকলন) অডিট আপত্তির সংখ্যা ১৮৬টি। সবমিলিয়ে মোট অডিট আপত্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮২৩টি। এসব আপত্তির সঙ্গে জড়িত অর্থের পরিমাণ ২৪ হাজার ৮৩২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

সভায় আরও জানানো হয়, গত এপ্রিল মাসে মোট ১৫টি অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ চারটি, অগ্রিম তিনটি এবং খসড়া আটটি আপত্তি রয়েছে। নিষ্পত্তিকৃত এসব আপত্তির আর্থিক পরিমাণ ছিল দুই কোটি দুই লাখ টাকা।

দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন থাকা অডিট আপত্তিগুলো চিহ্নিত করে তা দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন সভার সভাপতি। একই সঙ্গে নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় ও ত্রিপক্ষীয় সভা আয়োজন এবং ব্রডশিট জবাবের মাধ্যমে অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির ধারা অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া, দপ্তর ও সংস্থাভিত্তিক অডিট আপত্তির তথ্য ছক আকারে উপস্থাপনসহ দাখিল করা জবাব ও পেন্ডিং আপত্তির সংখ্যা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করার সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় দেওয়ানি ও রিট মামলা সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যও তুলে ধরা হয়। সহকারী সচিব (আইন) জানান, এপ্রিল পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোতে সর্বমোট আগত মামলার সংখ্যা ১ হাজার ৪৮৭টি। এর মধ্যে ১ হাজার ৩০১টির জবাব দাখিল করা হয়েছে এবং ১৮৬টির জবাব এখনও দাখিল করা সম্ভব হয়নি।

এ সময় জানানো হয়, আলোচিত সময়ে মোট ১০টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে এবং সবকটিতেই রায় সরকারের পক্ষে এসেছে। সরকারের বিপক্ষে কোনো রায় হয়নি। মাস শেষে বর্তমানে পেন্ডিং মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৭৭টি। এছাড়া, যেসব মামলার জবাব এখনো দাখিল হয়নি, সেগুলোর জবাব দাখিলের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, মন্ত্রণালয় ও দপ্তর/সংস্থা-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে সরকারের পক্ষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দাখিল নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কনটেম্পট (আদালত অবমাননা) মামলার বিষয়ে দ্রুত জবাব প্রেরণ, শুনানির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং স্পর্শকাতর মামলাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি মামলাগুলোকে পাঁচ বছর, ১০ বছর ও ১৫ বছর মেয়াদি ধাপে ভাগ করে কোন পর্যায়ে কতটি মামলা পেন্ডিং রয়েছে, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় শূন্য পদ ও নিয়োগ কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়। সভায় জানানো হয়, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২১২টি। এর মধ্যে বর্তমানে পূরণ রয়েছে ১৪৬টি পদ এবং শূন্য রয়েছে ৬৬টি পদ।

এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়, প্রতি বছর জুন মাসের মধ্যে আবশ্যিকভাবে পদের মেয়াদ সংরক্ষণের উদ্যোগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শাখাকে শূন্য পদ পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পদসৃজন এবং স্থায়ী ও অস্থায়ী পদের বিস্তারিত বিবরণও পরবর্তী সভায় উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভায় নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে নেওয়া কর্মপরিকল্পনা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য গৃহীত ১০০ দিন, ১৮০ দিন এবং আগামী এক ও পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে পৃথক বিশেষ সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, বর্তমানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চারটি তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব তদন্তের সঠিক তথ্য উপস্থাপন এবং তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অগ্রগতির বিষয়ে সভায় জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষে কর্মরত পাইলটদের জন্য ‘পাইলটেজ ভাতাদি’ প্রণয়নের লক্ষ্যে গত ১৬ মার্চ অর্থ বিভাগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ হাসপাতালকে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজে উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য গত বছরের ৪ নভেম্বর স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

বিবিধ আলোচনায় বিভিন্ন শাখায় দীর্ঘদিনের পুরোনো নথি ধ্বংসের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে। এ বিষয়ে সচিবালয় নির্দেশমালা অনুযায়ী পুরোনো নথি বিনষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অফিস পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি রাখার বিষয়ে দৈনন্দিন কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতি মাসে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথাসময়ে অফিসে উপস্থিতি ও হাজিরা শিটে স্বাক্ষর নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ দেন সচিব।

এসএইচআর/এমএআর/