শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামির থেকে অন্য ব্যক্তির নাম বলার যে চেষ্টা করা হয়েছে, তা বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার কৌশল হতে পারে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার (ডিএমপি) মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত 'গত মে মাসে ডিএমপির জন নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গৃহীত কার্যক্রম, অর্জিত সাফল্য, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সদ্য সমাপ্ত ঈদ-উল-আযহা কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়ন সম্পর্কিত' সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিন এ কথা বলেন।
শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিশু রামিসা হত্যা এবং ধর্ষণের আসামি যে অন্য ব্যক্তির নাম বলার চেষ্টা করেছে বা বলেছে, আমাদের ধারণা আসলে বিচার প্রক্রিয়া প্রলম্বিত করার জন্য তারা হয়তো বিভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে আমরা চার্জশিট দিয়েছি তাদের বাইরে আর কারো ইমপ্লিকেশন বা জড়িত হওয়ার কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ধন্যবাদ সবাইকে।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, পবিত্র ঈদুল-আযহার ছুটিকালীন সময়ে ঢাকা মহানগরে বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা, নাশকতা কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ছাড়াই আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল ছিল। পশুরহাট, বাস, লঞ্চ টার্মিনাল, রেল স্টেশন, শপিং মল, আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও এলাকায় ঈদের জামাত স্থল, বাসস্থান এবং ফাঁকা বাসাবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিএমপির সব ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করেছে।
তিনি বলেন, গত এক মাসে ডিএমপির অপারেশনাল ইউনিটগুলো বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৬৫৮ জন চাঁদাবাজ, ৯৭১ জন ছিনতাইকারী এবং ১২১৫ জন মাদক কারবারি সহ সর্বমোট ২৮৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। এই এক মাসে ডিএমপি অভিযান পরিচালনা করে ৭৪৪ কেজি গাজা, ১ লাখ ৭৯ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪০৫ গ্রাম হেরোইন, ১২৮১ বোতল ফেন্সিডিল, ২৮ লিটার দেশি বিদেশি মদ, ২৯ গ্রাম আইস ছয়টি দেশী বিদেশি অস্ত্র ও ২১ রাউন্ড গুলি, ৪ টি ম্যাগাজিন, ১১টি ককটেল ও ১২টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন চক্রের ছয় জন বিদেশি নাগরিক তথা চীনা নাগরিক সহ মোট নয় জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া ৫২৩ টি মোবাইল ফোন, ২৯৩ টি সিম কার্ড, ৪ টি মাইক্রোবাস, ৬ টি প্রাইভেটকার, ১ টি কাভার্ড ভ্যান, ১ টি বাস, ৯ টি সিএনজি ও ১৫ টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাজধানীর পল্লবী থানার চাঞ্চল্যকর এবং আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাত ঘণ্টার মধ্যে আমরা আসামি গ্রেপ্তার করেছি এবং আসামি ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। এই মামলার রুজু হওয়ার ৬ষ্ঠতম দিনেই আমরা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছিনতাই প্রতিরোধে শুধু মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ি ও উত্তরা নয় বরং ঢাকা শহরের প্রত্যেকটি জায়গায় আমাদের ইউনিফর্ম এবং সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন আছে।
এআই ক্যামেরার ভুয়া মামলা ও ভুয়া জরিমানার মেসেজ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের কিছু ফিশিং লিংকের আমরা সন্ধান পেয়েছি এবং তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য আমাদের সাইবার টিম কাজ করছে। নগরবাসীকে আমাদের ট্রাফিক বিভাগ থেকে মেসেজ দিয়েছি, বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি এবং বিআরটিএ থেকেও বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে যে আমাদের নাম্বারগুলো থেকে যেই সিস্টেমে মামলা হয় সেই মামলাগুলো আমাদের ট্রাফিক ডিভিশন থেকে তাদের কাছে ডাক যোগে পেপার যাবে। এই ধরনের কোন ফিশিং লিংকে মনোযোগ না দেওয়ার জন্য আমরা নগরবাসীকে রিকুয়েস্ট করেছি।
এমএসি/আরএফ
