বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, কর অব্যাহতি এবং জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি বন্ধের দাবি জানিয়েছে পরিবেশ, উন্নয়ন, যুব ও নাগরিক সমাজের ৩১টি সংগঠনের প্রতিনিধি, গবেষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সচেতন নাগরিকরা।
শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর শ্যামলী পার্কে ‘এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানি’র দাবিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নাগরিক সমাবেশ, মূকাভিনয় ও পোস্টার বিতরণ করা হয়। ‘ইনস্পায়ার্ড বাই নেচার, ফর ক্লাইমেট, ফর আওয়ার ফিউচার’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম বলেন, জলবায়ু সংকট ও পরিবেশ বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর উন্নয়ন ব্যবস্থা এবং এর পেছনে থাকা মুনাফা কেন্দ্রিক কার্যক্রম। জলবায়ু পরিবর্তনের টেকসই সমাধান হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তরের কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার আন্দোলন আরও জোরদার করতে হবে।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম হলেও দেশে এখনও জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর প্রকল্প সম্প্রসারণের প্রবণতা উদ্বেগজনক। আসন্ন জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে করমুক্ত সুবিধা ও প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি ও প্রণোদনা বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।
সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, জীবিকা ও প্রাকৃতিক সম্পদ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। উপকূল সুরক্ষায় সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা, বিশেষ বাজেট বরাদ্দ, সবুজ বেষ্টনী সম্প্রসারণ এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে জলবায়ু সংকট ও পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা নিয়ে একটি মূকাভিনয় পরিবেশিত হয়। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি সংবলিত পোস্টার সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
এমএইচএন/জেআই/এমএন
