ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, করপোরেশনের চারটি সোসাইটির সমন্বয়ে ও নগরবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সফল হয়েছে। তেমনি সোসাইটির সমন্বয়ের মাধ্যমে নগরবাসীর সহযোগিতায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও সিটি করপোরেশন সফল হবে।
শনিবার (৬ জুন) গুলশানে আয়োজিত ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে ৩ মাসব্যাপী মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের র্যালি অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রশাসক বলেন, আপনারা এখানে যারা উপস্থিত আছেন, তারা যদি আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া- মহল্লায় প্রতি পাঁচজন করে এবং পরে আরো দশ জন করে এ কথা জানান এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বিষয়ে সচেতন করে তোলেন তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বৃষ্টির পানি, বাসা বাড়িতে জমে থাকা পানিসহ যেকোনো স্থানে জমে থাকা পানি নিজ নিজ উদ্যোগে পরিষ্কার করার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ হতে বাসা বাড়িতে ক্যাম্পিং করা হবে, বিভিন্ন সভা সমাবেশ করা হবে এবং প্রতি নিয়ত তিন মাসের কর্মসূচির আওতায় কার্যক্রম চলমান থাকবে। করপোরেশনের জনগণের জন্য দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সেবা কার্যক্রম চালু থাকবে। জনগণ যেকোনো সময় তাদের দাবি করা সেবা সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে পাবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনসহ প্রত্যেকটি সিটি করপোরেশন জনগণকে সম্পৃক্ত করার কারণে এবং তাদের সহযোগিতায় অতি অল্প সময়ে ২ কোটি শিশুকে হামের টিকা দান কর্মসূচি যেমন সফল হয়েছে, তেমনি আজকের সমাবেশ থেকে যে কর্মসূচি শুরু হয়েছে, প্রত্যেকে যদি সচেতনভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ নিজের দায়িত্ব মনে করে প্রতিদিনের জীবন আচরণে কিছু পরিবর্তন এনে প্রতিবেশী বন্ধু বান্ধব আত্মীয়-স্বজনকে সচেতন করে নিজের স্থান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখে তাহলে ডেঙ্গুর প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, জনগণের সুস্বাস্থ্য ও সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং এই কর্মসূচিতে জনগণের সম্পৃক্ততাকে সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া হবে। একটি জাতি তখনই উন্নত জাতি হবে, যখন জনগণের কাছে সফলতা, উন্নয়ন ও সুস্বাস্থ্যের সুফল পৌঁছে দেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নেতৃত্বে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য আগামী তিন মাসের যে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, সেখানে জনগণকে সচেতন করে তোলার পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম প্রতিনিয়ত চলছে এবং এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী সোসাইটির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, সব সোসাইটিকে সরকার সহযোগিতা করবে, যাতে সোসাইটির এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে এবং তাতেও যদি কাজ না হয় তাহলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে জনগণকে ডেঙ্গুর হাত থেকে রক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিবে সরকার।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে ইমাম সাহেবদের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করে তোলা হবে, যাতে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে এক র্যালি গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক হতে শুরু হয়ে গুলশান -২ এ রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন পার্ক এসে শেষ হয়।
এএসএস/আরএফ/বিআরইউ
