উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে ইতালি, জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন উন্নত দেশে মানবপাচার ও প্রতারণা চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
গ্রেপ্তাররা হলেন, মো. এজাজুল হক ওরফে রতন (৬৩), নার্গিস বেগম (৪০) এবং মো. বাদল (৫৫)।
র্যাব-৪ এর একটি দল রাজধানীর মিরপুর ও ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে মিরপুরস্থ র্যাব-৪ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার (সিপিসি-১) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এন. রায় নিয়তি বলেন, কয়েকদিন আগে ইমরান হোসেন নামে এক ভুক্তভোগী আমাদের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন, এই চক্রের মাধ্যমে তিনি বিশাল অঙ্কের আর্থিক প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
এ ঘটনায় তিনি ডিএমপির শাহ আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে র্যাব-৪ এর একটি দল তাদের গ্রেপ্তার করে।
মামলার এজাহার ও আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিয়তি জানান, মামলার বাদী ইমরান হোসেন গাজীপুরের স্থানীয় বাসিন্দা। তিনি একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।
আসামি নার্গিস বেগম ও বাদল বাদীর বাড়ির পাশে বেশ কয়েক বছর আগে বাড়ি করে বসবাস শুরু করেন। সেই সুবাদে তাদের সঙ্গে বাদীর সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। আসামিরা মামলার বাদী ইমরানকে ইউরোপের বিভিন্ন উন্নত দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখায়। তখন বাদী বিদেশে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে তারা জানায়, তাদের পরিচিত এজেন্টের মাধ্যমে তারা তাকে (বাদীকে) ইতালি পাঠাতে পারবে।
পরবর্তীতে তারা বাদীকে আসামি রতনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। আসামি রতন বাদীকে ২২ লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। বাদী বিশ্বাস করে আসামিদের প্রস্তাবে রাজি হয়। ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর বাদী ইমরান হোসেন শাহ আলী থানাধীন মুক্ত বাংলা শপিং কমপ্লেক্সে আসামি রতনের অফিসে গিয়ে নগদ ৭০ হাজার টাকা দেন।
পরে বিভিন্ন সময় ও তারিখে বাদী আসামিদের আরও পাঁচ লাখ ২০ হাজার টাকা দেন। আসামি রতন বাদীকে কিছু কাগজপত্র দেন এবং বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। পরে আসামি রতন বাদীকে জানায় ইতালি সরকার লোক নেওয়া বন্ধ করেছে তাই তাকে ইতালি পাঠাতে পারবে না।
পরবর্তীতে আসামিরা ইমরান হোসেনকে জার্মানি পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। তাদের দেওয়া প্রস্তাবে রাজি হয়ে জার্মানি যাওয়ার জন্য তিনি আরও ৩ লাখ টাকা দেন। টাকা দেওয়ার এক মাস পর আসামিরা জানায় তার কাগজপত্রে কিছু ত্রুটি থাকার কারণে তাকে জার্মানি পাঠাতে পারবে না। তখন তারা তাকে কানাডাতে পাঠানোর আশ্বাস দেয়।
ইমরান হোসেন ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ভিসা, মেডিকেল ও বিমানের টিকিট বাবদ বিভিন্ন সময়ে আসামিদের আরও ১১ লাখ টাকা দেয়। পরে আসামিরা তাকে বিদেশে না পাঠিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে ঘোরাতে থাকেন।
গত জানুয়ারি মাসে ইমরান হোসেন রতনের অফিসে গিয়ে জানতে পারেন তিনি তার অফিস কয়েক মাস আগে বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি আরও জানতে পারেন, আসামিরা প্রতারণার মাধ্যমে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এন. রায় নিয়তি বলেন, এই চক্রের কাছে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছে এরকম আরও কয়েকটি অভিযোগ এসেছে। এসব বিষয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা আসামিদের থানায় প্রেরণ করবো, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
জেইউ/আরএফ/এমএসএ
