প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিশু ও তাদের পরিবারের পূর্ণ অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৩১ দফা জাতীয় দাবি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর ডিসএবিলিটি প্রফেশনালস (বিএনএডিপি)।
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব দাবি জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনএডিপির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। সংগঠনের পক্ষে ৩১ দফা জাতীয় দাবির লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক ইমরান শোয়েব। এ সময় সংগঠনের নেতারা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন প্রতিবন্ধী অধিকারভিত্তিক সংগঠনের প্রতিনিধি, প্রতিবন্ধী শিশু এবং তাদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিএনএডিপির উদ্যোগে প্রকাশিত বাংলাদেশের প্রথম পেশাজীবীভিত্তিক প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক নিউজলেটার ‘লাইট ফর ইনক্লুশন (একীভূতকরণের আলো)’-এর প্রথম সংখ্যার আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘একীভূতকরণের আলো’ কোনো সাধারণ নিউজলেটার নয়; এটি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্নের বহিঃপ্রকাশ, যেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিশু ও তাদের পরিবার শুধু সমাজের প্রান্তে নয়, বরং উন্নয়নের মূলধারায় মর্যাদার সঙ্গে অবস্থান করবে। যেখানে করুণা নয়, অধিকার হবে রাষ্ট্র ও সমাজের ভাষা এবং বৈচিত্র্যকে দুর্বলতা নয়, মানবিক শক্তি হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে।
তারা আরও বলেন, দেশের অসংখ্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও পরিবার প্রতিদিন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য সংগ্রাম করছেন। তাদের অনেক গল্প অজানা থেকে যায়, অনেক সাফল্য অপ্রকাশিত থাকে এবং বহু সম্ভাবনা যথাযথ সুযোগের অভাবে হারিয়ে যায়। ‘একীভূতকরণের আলো’ সেই সব গল্প, অভিজ্ঞতা, গবেষণা, উদ্ভাবন, অধিকারচর্চা এবং আশার আলোকে একত্রিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
তারা জানান, নিউজলেটারের প্রথম সংখ্যাটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। কারণ, এটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন বিএনএডিপি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক ৩১ দফা জাতীয় দাবি উপস্থাপন করেছে।
সংগঠনটির ভাষ্য, ঘোষিত ৩১ দফা দাবিপত্র কেবল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নয়, বরং একটি অধিক ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনের জন্যও অপরিহার্য। বিএনএডিপি এ দাবিপত্রকে দেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য একটি ‘মুক্তির সনদ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
অনুষ্ঠানে সরকার, জাতীয় সংসদ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, যাতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও পরিবারকে উন্নয়নের প্রান্তে নয়, কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান দেওয়া হয় এবং ‘নাথিং অ্যাবাউট আস উইদাউট আস’ নীতির আলোকে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।
এমএইচএন/আরএফ
