হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় আগুন লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু অস্বাভাবিক তথ্য সামনে আসায় ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যে কন্টেইনারে আগুন লাগে, সেখানে থাকা পণ্য আগামীকাল (রোববার) নিলামে তোলার কথা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকে অন্তত পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান ডিএইচএলের কয়েকজন কর্মীও রয়েছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেটের কাছে কুরিয়ার অপারেশন এলাকায় ডিএইচএলের একটি কন্টেইনারে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে ঘটনাস্থলটি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতার বাইরে থাকায় তদন্তে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কন্টেইনারের কাছাকাছি একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং কিছু বিচ্ছিন্ন তার ছিল। কিন্তু শর্ট সার্কিটজনিত অগ্নিকাণ্ডের যেসব সাধারণ লক্ষণ থাকে, তার কোনোটি সেখানে পাওয়া যায়নি। বিদ্যুৎ সরবরাহও স্বাভাবিক ছিল। ফলে আগুনের উৎস নিয়ে তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বেড়েছে।
ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে কয়েকটি সিগারেটের অবশিষ্টাংশও উদ্ধার করা হয়েছে। যদিও ওই এলাকায় ধূমপান নিষিদ্ধ। তবে তদন্তকারীদের মতে, সিগারেটের কারণে আগুন লাগলে সাধারণত ধীরে ধীরে আগুন ছড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে বলে ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে।
ফুটেজ পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, আগুন লাগার সময় ঘটনাস্থলের কাছেই ডিএইচএলের এক কর্মী অবস্থান করছিলেন। তিনি সেখানে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। আগুন দেখা দেওয়ার পরও কিছু সময় তিনি ঘটনাস্থলের দিকে তাকিয়ে ছিলেন এবং পরে অন্যদের বিষয়টি জানান। তার আচরণও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আগুনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি মানবসৃষ্ট কোনো ঘটনা, তা গুরুত্বের সঙ্গে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কন্টেইনারে কাপড়ের রোল, কাগজজাত পণ্য, রাবার ও প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল সংরক্ষিত ছিল। এসব পণ্য আগামীকাল রোববার নিলামে তোলার কথা ছিল। নিলামের ঠিক আগে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে একই প্রতিষ্ঠানের মালামাল সংরক্ষণ এলাকায় আবারও আগুন লাগার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে গত বছরের ১৮ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডে বিপুল পরিমাণ পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, আগের ঘটনার পরও অগ্নিনিরাপত্তা জোরদারে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ফলে নতুন এ ঘটনা উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, আগুনের উৎস এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। দুর্ঘটনার পাশাপাশি নাশকতার কোনো সম্ভাবনা রয়েছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এমএইচএন/বিআরইউ
