বিজ্ঞাপন

এমপি সেলিমকে বিধি মনে করালেন হাফিজ উদ্দিন

এমপি সেলিমকে বিধি মনে করালেন হাফিজ উদ্দিন

সংসদে কোনো অভিযোগ উত্থাপনের আগে কার্যপ্রণালী বিধি ভালো করে পড়ে নেওয়ার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। 

একইসঙ্গে সংসদ সচিবালয় বা এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ নিয়ে কোনো ক্ষোভ বা অভিযোগ থাকলে তা হাউজে (সংসদ অধিবেশনে) না তুলে সরাসরি স্পিকারের কাছে লিখিতভাবে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

রোববার (৭ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ভুঁইয়ার এক অভিযোগের জবাবে স্পিকার এসব কথা বলেন।  

এর আগে এমপি সেলিম হক ভুঁইয়া সংসদে অভিযোগ করেন, সবার আগে নোটিশ জমা দেওয়া সত্ত্বেও তালিকায় তার নাম এক নম্বরে আসেনি।

সংসদ সদস্যের এই অভিযোগ খণ্ডন করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে বলেন, আপনি সবার আগে জমা দেওয়া সত্ত্বেও আপনার নাম এক নম্বরে কেন এলো না, তা নিয়ে আমি নিজে খোঁজখবর নিয়েছি। দেখতে পেয়েছি, আজকে আপনি যে নোটিশটি জমা দিয়েছেন, সেটি নোটিশ জমা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার এক মিনিট পর জমা পড়েছে। যেহেতু সময় পার হয়ে গেছে, তাই আগামীকালকের তালিকায় আপনার নাম প্রথমে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং আপনার অভিযোগটি মোটেও সঠিক নয়। আজকে আপনার ৫৬ নম্বরে যে নোটিশটি এসেছে, সেটি মূলত আপনি গত ১১ তারিখে জমা দিয়েছিলেন। 

নিয়ম অনুযায়ী, নোটিশ নির্ধারিত সময়ের অন্তত দুই ঘণ্টা আগে জমা দিতে হয়। আপনি সেই সময় পার হওয়ার পর জমা দেওয়ায় আজকে তা তালিকায় আসেনি, তবে আগামীকাল আসবে।

এরপর সকল সংসদ সদস্যের জ্ঞাতার্থে কার্যপ্রণালী বিধির ৫৪ ধারার ৩ উপধারা পড়ে শোনান স্পিকার। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদ সচিবালয় সম্পর্কে বা এর কর্মচারীবৃন্দের আচরণ সম্পর্কে কেবল ব্যক্তিগত চিঠিপত্রের মাধ্যমে স্পিকারকে প্রশ্ন করা যাবে। স্পিকারের উত্তরসহ অনুরূপ চিঠিপত্রের প্রতিলিপি ব্যক্তিগত পত্রের মাধ্যমে অন্যান্য সদস্যের নিকট প্রেরিত হবে।

এই বিধির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদ সচিবালয় সম্পর্কে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তবে তা হাউজে তুলবেন না। সরাসরি আমাকে লিখিতভাবে জানাবেন। প্রথম যে অভিযোগটি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুল এবং এর জন্য সংসদ সচিবালয় মোটেও দায়ী নয়। এটি আগামীকাল তালিকায় আসবে। এ কারণেই আমি বারবার বলি, কার্যপ্রণালী বিধির এই বইটি দয়া করে আপনারা সবাই ভালোভাবে পড়ুন। 

এসআর/এমএসএ