বিজ্ঞাপন

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন

এনসিটি বিদেশিদের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ জাতীয় স্বার্থবিরোধী

এনসিটি বিদেশিদের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ জাতীয় স্বার্থবিরোধী

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার যে–কোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান।  

তিনি বলেছেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্থাপনা এনসিটিকে বিদেশিদের হাতে হস্তান্তর করা জাতীয় স্বার্থ, শ্রমিকদের অধিকার এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার পরিপন্থি।

রোববার (৭ জুন) দলটির চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরের মাসিক নির্বাহী বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

এস এম লুৎফর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সর্বাধিক কনটেইনার হ্যান্ডলিংকারী টার্মিনাল হচ্ছে এনসিটি। চলতি বছরের মে মাসেও টার্মিনালটি সর্বোচ্চ কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। বর্তমানে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় সফলভাবে পরিচালিত এ টার্মিনালকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ অযৌক্তিক, অপ্রয়োজনীয় ও উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবসময় বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানায়। তবে বিদেশি বিনিয়োগের নামে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সফলভাবে পরিচালিত স্থাপনাগুলো বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বে-টার্মিনাল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর কিংবা নতুন টার্মিনাল নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বিদ্যমান ও লাভজনক স্থাপনাগুলো হস্তান্তর করা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি।

শ্রমিক নেতা লুৎফর রহমান আরও বলেন, এনসিটিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা, বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য অধিকার শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে শ্রমিক প্রতিনিধি, বন্দর ব্যবহারকারী, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া জরুরি। তিনি উন্মুক্ত, প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচন নিশ্চিত করারও দাবি জানান।

দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরের মতো কৌশলগত স্থাপনা পরিচালনার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। দেশের স্বার্থ ও শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে শ্রমিক সমাজ গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হবে বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে মহানগর সহ-সভাপতি নজির হোসেন ও মকবুল আহমেদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী, বিআরআইএলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মজুমদার, মহানগর সহ-সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শিহাব উল্লাহ ও অধ্যক্ষ আসাদ উল্লাহ আদিল, সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, দপ্তর সম্পাদক স ম শামীম, প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহীম মানিক, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম এবং পাঠাগার সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এমআর/জেআই/এমএসএ