বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি : রোগীসেবায় অচলাবস্থা

চট্টগ্রাম মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি : রোগীসেবায় অচলাবস্থা

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কারণে চিকিৎসাসেবায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু হওয়ার পর দেশের অন্যতম বৃহৎ এই সরকারি হাসপাতালে রোগীসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে ভর্তি রোগী, জরুরি বিভাগের রোগী এবং তাদের স্বজনরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় ২৮ নম্বর নিউরোসার্জরি বিভাগে সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়ার্ডের ভেতরে সিটভর্তি রোগী। ফ্লোরে আড়াআড়ি করে রাখা হয়েছে অন্তত ৫০ জন রোগীকে। চিকিৎসকদের কক্ষে দেখা যায়নি কাউকে। তবে চিকিৎসকের সামনে থাকা এক কর্মচারী জানান, ডাক্তার আছে। তিনি নামাজ পড়তে গেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি নোটিশ প্রত্যাহারসহ ছয় দফা দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি পালন করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না পাওয়ায় তারা এ কর্মসূচি শুরু করেন।

হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, রোগীদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, নতুন রোগী ভর্তি, চিকিৎসকদের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, পরীক্ষা-নিরীক্ষার সমন্বয় এবং জরুরি রোগীদের প্রাথমিক মূল্যায়নের কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। অনেক রোগী ও তাদের স্বজনকে চিকিৎসাসেবা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

dhakapost

রোগীর স্বজনরা জানান, ওয়ার্ডে চিকিৎসকদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় রোগীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দ্রুত জানানো এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় কাটছে তাদের।

কক্সবাজার থেকে আসা রোগীর স্বজন রবিউল করিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, জরুরি বিভাগ থেকে আমাদের রোগীকে ক্যাজুয়েলিটি বিভাগে পাঠানো হয়। সেখানকার চিকিৎসক ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। এখানে (নিউরোসার্জারি বিভাগ) এসে ডাক্তারের অপেক্ষায় এক ঘণ্টা পর্যন্ত বসে আছি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চিকিৎসা ব্যবস্থায় ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা সামনের সারির কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারা রোগীদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ, ফলো-আপ, ওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা এবং সিনিয়র চিকিৎসকদের নির্দেশনা বাস্তবায়নের কাজ করে থাকেন। ফলে তাদের অনুপস্থিতিতে রোগীসেবার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়া স্বাভাবিক।

বিশেষ করে চমেকের মতো হাসপাতালে প্রতিদিন হাজারো রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। সেখানে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে সিনিয়র চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। সীমিত জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগী সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসাসংশ্লিষ্টদের। এতে চিকিৎসাসেবার গতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ছে।

এদিকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নেতারা। ফলে দ্রুত সমাধান না হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রোগী ও স্বজনরা।

কর্মবিরতি পালন করা চিকিৎসকদের সংগঠন ইন্টার্ন ডক্টর অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক ডা. ইরফানুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রতিনিধিদের সঙ্গে এখনও মিটিং চলমান আছে। এটা শেষ হলে আপডেট পাওয়া যাবে। ততক্ষণ পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাড়া পাওয়া যায়নি।

আরএমএন/এসএএস/এমএন