চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং কর ফাঁকি রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব খাটিয়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কর ফাঁকির সুযোগ দেওয়া হবে না। রাজস্ব আদায়ের অগ্রগতি পর্যালোচনায় প্রতি মাসে রাজস্ব বিভাগের সঙ্গে সভা অনুষ্ঠিত হবে। আদায়ে গাফিলতি বা দায়িত্বহীনতার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একইসঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ফাইভ স্টার হোটেল, মার্কেট, গার্মেন্টস কারখানা ও কন্টেইনার ডিপোগুলোর বকেয়া ও প্রাপ্য রাজস্ব আদায়ে জোর দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
সোমবার (৮ জুন) লালদিঘিতে অবস্থিত চসিক পাবলিক লাইব্রেরি ভবনে রাজস্ব বিভাগের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় চসিকের রাজস্ব বিভাগের প্রতিটি সার্কেলের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য নেন মেয়র।
মেয়র বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বকেয়া আদায়ের জন্য বিভিন্ন সংস্থায় ডিও (ডেমি-অফিসিয়াল) চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে। পাশাপাশি বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ফাইভ স্টার হোটেল, মার্কেট, গার্মেন্টস কারখানা ও কন্টেইনার ডিপোগুলোর হোল্ডিং কর যথাযথভাবে আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
কর আদায়ে কোনো ধরনের শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না উল্লেখ করে মেয়র বলেন, রাজনৈতিক বা অন্য কোনো পরিচয়ের কারণে কিংবা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কেউ রাজস্ব ফাঁকি দিতে পারবে না। কর আদায়ের ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে কর পরিশোধ করছে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সাব্বির রহমান সানসহ রাজস্ব বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
এ সময় রাজস্ব কর্মকর্তারা তাদের নিজ নিজ সার্কেলের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধানের বিষয় তুলে ধরেন। কিছু সার্কেলে কর আদায়কারী না থাকায় নতুন স্থাপনাগুলো থেকে কর আদায় ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তারা। এছাড়া নগরীর যেসব স্থাপনা এখনো রাজস্ব মূল্যায়নের আওতায় আসেনি, সেগুলোর হোল্ডিং করের মূল্যায়ন (অ্যাসেসমেন্ট) সম্পন্ন করার পরামর্শও উঠে আসে সভায়।
সভায় উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, বিপুল পরিমাণ সম্ভাব্য রাজস্ব এখনো আদায়ের বাইরে রয়েছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে কর-সচেতনতার ঘাটতি, কর ফাঁকির প্রবণতা এবং রাজস্ব বিভাগের জনবল ও লজিস্টিক সংকটকে এ অবস্থার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
এমআর/আরএফ/জেডএস
