ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের জন্য ফিফার সঙ্গে ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, টেলিকম অপারেটর, স্যাটেলাইট চ্যানেল ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কাছে সম্প্রচারস্বত্ব ও বিজ্ঞাপন বিক্রির মাধ্যমে প্রায় পুরো অর্থ উঠে এসেছে। ফলে নামমাত্র খরচে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) বিশ্বকাপের খেলা সম্প্রচার করতে পারবে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা ফিফার সঙ্গে অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং যৌক্তিক মূল্যে চুক্তি স্বাক্ষর করার আহ্বান জানাই। অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং নীতিমালার আলোকে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের চূড়ান্ত চুক্তিমূল্য নির্ধারিত হয়েছে মাত্র ৩.৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৭ কোটি ২৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা। ভ্যাট এবং আয়করসহ মোট মূল্য দাড়াঁবে ৬৩ কোটি ৭৯ লাখ ৯৩ হাজার ১২৫ টাকা।
তিনি আরও বলেন, জনগণের জন্য আনন্দের বিষয় হলো এই টাকা বিটিভিকে পরিশোধ করতে হবে না। আমরা টেলকো, স্যাটেলাইট চ্যানেল এবং ওটিটি ফ্ল্যাটফরমের কাছে নীতিমালা অনুযায়ী অ্যাডভারটাইজমেন্ট এবং রাইটস বিক্রি করে প্রায় সব টাকা উঠিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। নামমাত্র খরচে বিটিভি খেলা দেখাবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের বিনিময়ে বিটিভি খেলা দেখিয়েছিল। সেই ধোঁয়াশাপূর্ণ চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়ে আজ দেশের মানুষের মনে বড় প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপি যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়, তখন ফুটবল বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে এক অদ্ভুত গোলকধাঁধা তৈরি করা হয়েছিল। ফিফা থেকে স্বত্ব কিনে নেওয়া একটি প্রতিষ্ঠান প্রথমে আমাদের কাছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা দাবি করে। এটি ছিল জনগণের ট্যাক্সের টাকার ওপর আরেকটি বড় আঘাতের চেষ্টা। কিন্তু আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি জনগণের অর্থের অপচয় বা কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করবে না। ফলে, সেই অযৌক্তিক ক্রয় প্রস্তাব কার্যকর হয়নি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সরাসরি ফিফার সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়। এই প্রক্রিয়ায় আমরা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) তথা সভাপতি তাবিথ আউয়াল যুক্ত করি। দিনের পর দিন ম্যারাথন মিটিং, জটিল আলোচনা এবং দরকষাকষির মধ্য দিয়ে আমরা একটি জায়গায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি। এটি স্বৈরাচারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সততা এবং জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার এক বিশাল বিজয়।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের আমলের চেয়ে এই খরচ শুধু কমই নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে নিয়ত যদি পরিষ্কার থাকে, তাহলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সততা দিয়ে- দেশের টাকা বাঁচিয়েও জনগণকে পৃথিবীর সেরা সেবা দেওয়া সম্ভব।
এসএইচআর/এমএন
