বিজ্ঞাপন

পরিচিত সহযাত্রীই কাল হলো ট্রাকচালক আব্দুর রহমানের

পরিচিত সহযাত্রীই কাল হলো ট্রাকচালক আব্দুর রহমানের

মাগুরায় ভোজ্য তেলভর্তি ট্রাক ছিনতাই ও চালক আব্দুর রহমান হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন মো. ওহিদুল ইসলাম (৩৬)। তিনি ছিলেন নিহত আব্দুর রহমানের পূর্বপরিচিত ও সহযাত্রী।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোরে সাভারের পলাশ মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৪ এর একটি দল।

আজ রাজধানীর মিরপুর পাইকপাড়ায় র‍্যাব-৪ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব-৪-এর সদর কোম্পানির কোম্পানি কমান্ডার মেজর শেখ আরমান হোসাইন হৃদয়।

তিনি বলেন, গত ২০ মে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার খেদপাড়া এলাকায় একটি নিখোঁজ ট্রাকের ভেতর থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পরিচয় শনাক্ত করে জানা যায়, নিহত ব্যক্তি আব্দুর রহমান (৫৮), যিনি পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন।

তদন্তে জানা যায়, ‘মেসার্স মহামায়া ট্রেডার্স’-এর জন্য প্রায় ১৯ লাখ টাকা মূল্যের ৬০ ব্যারেল ভোজ্যতেল নিয়ে গত ১৮ মে রাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে মাগুরার উদ্দেশে রওনা দেন আব্দুর রহমান। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে না পৌঁছালে মালিকপক্ষ তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। তবে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে খোঁজাখুঁজি করেও ট্রাক ও চালকের হদিস না মেলায় মালিক মাগুরার শালিখা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

র‍্যাবের ভাষ্য, ঘটনার দিন ওহিদুল ইসলাম ও তার সহযোগী আজাদ হোসেন ওরফে হিটলার একই এলাকার পরিচিত হওয়ায় ট্রাকে করে ভিকটিমের সঙ্গে যাত্রা করেন। পথে ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকায় পৌঁছালে ওহিদুল প্রস্রাবের অজুহাতে একটি নির্জন স্থানে ট্রাক থামাতে বলেন। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল সাগর নামে তাদের আরেক সহযোগী।

পরিকল্পনা অনুযায়ী কিছু দূর যাওয়ার পর নির্জন স্থানে ওহিদুল ও হিটলার গামছা দিয়ে চালকের গলা চেপে ধরেন। পরে ট্রাকের পেছন থেকে সাগর সামনে এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। একপর্যায়ে তিনজন মিলে আব্দুর রহমানকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর মরদেহ ট্রাকের কেবিনের পেছনে লুকিয়ে রাখা হয়।

হত্যার পর তারা মাগুরা সদর উপজেলার কামারপাড়া এলাকার একটি দোকানের সামনে ট্রাকে থাকা ভোজ্যতেল নামিয়ে নেয়। পরে হত্যার আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে ট্রাকসহ মরদেহ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার খালকুড়া এলাকার একটি ফাঁকা মাঠসংলগ্ন সড়কে ফেলে পালিয়ে যায়।

মেজর শেখ আরমান হোসাইন হৃদয় বলেন, ৬০ ব্যারেল ভোজ্যতেল ছিনতাই করাই ছিল হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য। এ ঘটনায় এরই মধ্যে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ছিনতাই হরা ট্রাকসহ বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেল উদ্ধার করেছে।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর র‍্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওহিদুল ইসলামের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে সাভারে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ওহিদুল ইসলাম হত্যাকাণ্ড ও ট্রাক ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকারী। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেইউ/এসএম

বিজ্ঞাপন