সময়মতো বর্জ্য না ফেললে বা নিয়ম অমান্য করলে নোটিশ ও জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম।
মঙ্গলবার (৯ জুন) নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে বাজার ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব বাড়াতে মার্কেট কমিটির মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।
প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলতে হবে এবং সেখান থেকে করপোরেশনের নির্ধারিত ঠিকাদাররা তা সংগ্রহ করবে। কোনো অবস্থাতেই মার্কেটের সামনে ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবে না। সময়মতো বর্জ্য না ফেললে বা নিয়ম অমান্য করলে নোটিশ ও জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন একটি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সড়ক নির্মাণ, ড্রেনেজ উন্নয়ন, মশক নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে নাগরিক সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে উন্নয়ন কার্যক্রম গতিশীল রাখতে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিটি কর্পোরেশন নাগরিকদের কর ও ভাড়ার অর্থেই পরিচালিত হয়। রাজস্ব ঘাটতির কারণে সেবা কার্যক্রমে চাপ তৈরি হচ্ছে, তাই ব্যবসায়ীদের নিয়মিত কর ও ভাড়া পরিশোধে এগিয়ে আসতে হবে।
অনিয়ম ও অবৈধ স্থাপনা প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, দীর্ঘ ১৫-২০ বছর ধরে চলে আসা বিভিন্ন অনিয়ম ও জটিলতা আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চাই। আপনারা নিয়ম মেনে সহযোগিতা করুন, সিটি কর্পোরেশনও প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে। আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই যেখানে আপনারা বৈধভাবে ব্যবসা করবেন এবং কর্পোরেশনও তার প্রাপ্য রাজস্ব পাবে। একজনকে টাকা দিয়ে ব্যবসা করলেই তা বৈধ হয়ে যায় না, বৈধতার জন্য সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুসরণ করতেই হবে।
ট্রেড লাইসেন্স ও সাইনবোর্ড কর বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক মার্কেটে এখনো বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ীর বৈধ লাইসেন্স নেই। মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হলে দীর্ঘদিনের বকেয়াসহ জরিমানা আরোপ হতে পারে, তাই দ্রুত লাইসেন্স হালনাগাদ করার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া অতিরিক্ত বড় সাইনবোর্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত কর যথাযথভাবে পরিশোধ করতে হবে। মার্কেটের প্যাসেজ, জনসাধারণের চলাচলের পথ ও প্রবেশদ্বার দখল করে কোনো দোকান বসানো যাবে না। স্বউদ্যোগে এসব অবৈধ স্থাপনা ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ না করলে আইন অনুযায়ী কঠোর উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ডিএসসিসি এলাকার সকল রেস্তোরাঁ, আবাসিক হোটেল ও ক্যাফেতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুবিধার্থে পৃথক র্যাম্প ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বকেয়া পৌরকর পরিশোধে সারচার্জ মওকুফের বিশেষ সুযোগ গ্রহণের মাধ্যমে করদাতারা যেমন আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন, তেমনি নগরের উন্নয়ন কার্যক্রমও আরও বেগবান হবে।
সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন বাজার ও মার্কেটের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এএসএস/বিআরইউ
