মালদ্বীপ থেকে মৎস্য, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও নীল অর্থনীতি খাতে সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ ও যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম এবং দেশটির প্রজাতন্ত্রের মৎস্য, কৃষি ও মহাসাগরীয় সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ শিয়ামের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে কৃষি, মৎস্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং নীল অর্থনীতির বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে মালদ্বীপের মন্ত্রী আহমেদ শিয়াম, বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে অর্জিত সাফল্যের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে মালদ্বীপের কৃষি খাতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের অবদানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
এছাড়া, তিনি, ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি কার্যকর সমন্বয় কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম কৃষি ও মৎস্য খাতে প্রযুক্তি বিনিময়, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তিনি বলেন, মালদ্বীপের বিশ্বমানের টুনা শিল্প বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। এ খাতে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি যৌথ বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগও রয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে মৎস্য ও সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের বিষয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের আধুনিকায়ন এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, নীল অর্থনীতির অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার, গবেষণা সহযোগিতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে এ সহযোগিতা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক সংযোগ ও আঞ্চলিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
জেআই/
